হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও ধূমপান থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়। তবে এর পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ—পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম।
গবেষণায় ঘুমের স্বল্পতা, অনিয়মিত ঘুম এবং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, শরীরে প্রদাহ, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ঘুমের সময় শরীর পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকে না। বিশেষ করে গভীর ঘুমে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ কিছুটা কমে আসে। এতে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ কমে এবং শরীর স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।
কিন্তু ঘুম বারবার ভেঙে গেলে বা পর্যাপ্ত গভীর ঘুম না হলে এই বিশ্রাম ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে রক্তচাপ বৃদ্ধি, প্রদাহ ও বিপাকীয় সমস্যার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিদিন মোট সাত বা আট ঘণ্টা ঘুমালেই যে ঘুমের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, এমন নয়। কখন ঘুমাচ্ছেন, ঘুম কতটা নিরবচ্ছিন্ন হচ্ছে, ঘুমের মান কেমন এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৫ সালের বৈজ্ঞানিক বিবৃতিতে ঘুমের সময়ের পাশাপাশি ঘুমের নিয়মিততা ও গুণমানকেও হৃদ্স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তাই একদিন রাত ১০টায় এবং অন্যদিন রাত ২টায় ঘুমানোর মতো অনিয়মিত অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ভালো নয়।
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু সময় পূরণ করাই যথেষ্ট নয়; ঘুম হতে হবে ভালো মানের এবং যতটা সম্ভব নিয়মিত।
খুব কম বা অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গেও কিছু গবেষণায় হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে ঘুমের প্রয়োজন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
বিছানায় আট ঘণ্টা থাকা আর আট ঘণ্টা ভালো ঘুম হওয়া এক বিষয় নয়। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, ঘুম আসতে দীর্ঘ সময় লাগা, প্রতিদিন ঘুমের সময় পরিবর্তিত হওয়া কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্ত লাগা—এসব ভালো ঘুম না হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
শুধু নাক ডাকলেই হৃদ্রোগ হবে—এমন নয়। তবে খুব জোরে নাক ডাকার সঙ্গে যদি ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা, হাঁসফাঁস করে ওঠা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়ার সমস্যা থাকে, তাহলে তা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এমন লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিশ্রাম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি ও প্রদাহের মতো হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবারে লবণ কমানোর পাশাপাশি ঘুমের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা ও খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে ক্লান্তির কারণে শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে স্থূলতা ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
এভাবে ঘুমের সমস্যা পরোক্ষভাবেও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
না। এক রাত কম ঘুমানো মানেই হৃদ্রোগ হয়ে যাবে—এমন নয়। মূল উদ্বেগ হলো দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
নিয়মিত কম ঘুমানো, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই মাঝে মধ্যে এক রাত খারাপ ঘুম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে—
ঘুমের সমস্যা নিয়মিত হলে এবং তা দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, সকালে অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং দিনের বেলায় অস্বাভাবিক ঘুম পাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু খাবার ও ব্যায়ামের দিকে নজর দিলেই হবে না। নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুমও সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা থাকলে তা অবহেলা না করাই ভালো।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও ধূমপান থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়। তবে এর পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ—পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম।
গবেষণায় ঘুমের স্বল্পতা, অনিয়মিত ঘুম এবং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, শরীরে প্রদাহ, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ঘুমের সময় শরীর পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকে না। বিশেষ করে গভীর ঘুমে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ কিছুটা কমে আসে। এতে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর চাপ কমে এবং শরীর স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।
কিন্তু ঘুম বারবার ভেঙে গেলে বা পর্যাপ্ত গভীর ঘুম না হলে এই বিশ্রাম ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে রক্তচাপ বৃদ্ধি, প্রদাহ ও বিপাকীয় সমস্যার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিদিন মোট সাত বা আট ঘণ্টা ঘুমালেই যে ঘুমের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, এমন নয়। কখন ঘুমাচ্ছেন, ঘুম কতটা নিরবচ্ছিন্ন হচ্ছে, ঘুমের মান কেমন এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৫ সালের বৈজ্ঞানিক বিবৃতিতে ঘুমের সময়ের পাশাপাশি ঘুমের নিয়মিততা ও গুণমানকেও হৃদ্স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তাই একদিন রাত ১০টায় এবং অন্যদিন রাত ২টায় ঘুমানোর মতো অনিয়মিত অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ভালো নয়।
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু সময় পূরণ করাই যথেষ্ট নয়; ঘুম হতে হবে ভালো মানের এবং যতটা সম্ভব নিয়মিত।
খুব কম বা অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গেও কিছু গবেষণায় হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে ঘুমের প্রয়োজন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
বিছানায় আট ঘণ্টা থাকা আর আট ঘণ্টা ভালো ঘুম হওয়া এক বিষয় নয়। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, ঘুম আসতে দীর্ঘ সময় লাগা, প্রতিদিন ঘুমের সময় পরিবর্তিত হওয়া কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্ত লাগা—এসব ভালো ঘুম না হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
শুধু নাক ডাকলেই হৃদ্রোগ হবে—এমন নয়। তবে খুব জোরে নাক ডাকার সঙ্গে যদি ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা, হাঁসফাঁস করে ওঠা বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়ার সমস্যা থাকে, তাহলে তা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এমন লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক বিশ্রাম ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি ও প্রদাহের মতো হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবারে লবণ কমানোর পাশাপাশি ঘুমের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা ও খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে ক্লান্তির কারণে শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে স্থূলতা ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
এভাবে ঘুমের সমস্যা পরোক্ষভাবেও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
না। এক রাত কম ঘুমানো মানেই হৃদ্রোগ হয়ে যাবে—এমন নয়। মূল উদ্বেগ হলো দীর্ঘদিনের অভ্যাস।
নিয়মিত কম ঘুমানো, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই মাঝে মধ্যে এক রাত খারাপ ঘুম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে—
ঘুমের সমস্যা নিয়মিত হলে এবং তা দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, সকালে অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং দিনের বেলায় অস্বাভাবিক ঘুম পাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু খাবার ও ব্যায়ামের দিকে নজর দিলেই হবে না। নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুমও সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা থাকলে তা অবহেলা না করাই ভালো।
