উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা নদী শুধু একটি নদী নয়-এটি জীবিকা, কৃষি ও টিকে থাকার প্রতীক। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আর বর্ষায় হঠাৎ বন্যার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত তিস্তাপাড়ের জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে বহু আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি চীন সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই প্রকল্প। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা, বিশেষ করে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর, তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
২০১৬ সালের পর চীনের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন কয়েক বছর ধরে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং শুরু থেকেই অর্থায়নের আগ্রহ দেখায়। তবে ভারত-এর আপত্তি এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক জটিলতায় দীর্ঘদিন প্রকল্পটি থমকে ছিল।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আবারও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়। এতে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন-শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ।
তিস্তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন এখন দেখতে চায় তিস্তাপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি-দ্রুত কাজ শুরু করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে সরকার নিজস্ব অর্থায়নেও ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার বিষয়টিও দ্রুত সমাধান জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে নদী প্রায় শুকিয়ে যায়, আর বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ছাড়ায় হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়। এতে কৃষি, পরিবেশ ও জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাই কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়িয়ে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা নদী শুধু একটি নদী নয়-এটি জীবিকা, কৃষি ও টিকে থাকার প্রতীক। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আর বর্ষায় হঠাৎ বন্যার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত তিস্তাপাড়ের জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে বহু আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি চীন সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই প্রকল্প। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা, বিশেষ করে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফর, তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
২০১৬ সালের পর চীনের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন কয়েক বছর ধরে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং শুরু থেকেই অর্থায়নের আগ্রহ দেখায়। তবে ভারত-এর আপত্তি এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক জটিলতায় দীর্ঘদিন প্রকল্পটি থমকে ছিল।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আবারও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়। এতে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন-শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ।
তিস্তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন এখন দেখতে চায় তিস্তাপাড়ের মানুষ। তাদের দাবি-দ্রুত কাজ শুরু করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে সরকার নিজস্ব অর্থায়নেও ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নিতে পারে। একই সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার বিষয়টিও দ্রুত সমাধান জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে নদী প্রায় শুকিয়ে যায়, আর বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ছাড়ায় হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়। এতে কৃষি, পরিবেশ ও জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাই কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়িয়ে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
