একসময় বাঙালি বাড়িতে তামা ও পিতলের বাসনের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। বর্তমানে স্টিল, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিকের মতো আধুনিক বাসনের কারণে সেই ব্যবহার অনেকটাই কমেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী বাসনের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় অনেকের রান্নাঘরে আবারও জায়গা করে নিচ্ছে তামা ও পিতলের থালা, বাটি, গ্লাস ও হাঁড়ি।
এসব বাসন নিয়ে নানা স্বাস্থ্য উপকারের কথা প্রচলিত থাকলেও শুধু ধাতুর নামের ওপর ভিত্তি করে কোনো বাসনকে নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলা যায় না। বাসনের গঠন, ভেতরের আবরণ, খাবারের ধরন এবং ব্যবহারের পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া সব পিতলের বাসন একই উপাদানে তৈরি নয়। কিছু পণ্যে অন্যান্য ধাতুও থাকতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের বা অজানা উৎসের পিতলের বাসনে সীসার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই খাবারের সংস্পর্শে ব্যবহারের জন্য তৈরি মানসম্মত বাসন বেছে নেওয়া জরুরি।
তবে অতিরিক্ত তামা শরীরে প্রবেশ করলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সংস্পর্শে থাকলে আরও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই তামার বাসন ব্যবহার করা যাবে না বিষয়টি এমন নয়। বরং খাবারের সঙ্গে সরাসরি তামার সংস্পর্শ হচ্ছে কি না এবং বাসনটির অবস্থা কেমন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে অনেক তামার রান্নার পাত্রের ভেতরে অন্য ধাতুর আবরণ দেওয়া থাকে। এই আবরণ খাবার ও তামার সরাসরি সংস্পর্শ কমাতে সাহায্য করে। তবে আবরণ উঠে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই পাত্র ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
তামার পাত্রে দীর্ঘ সময় পানি রাখলে তাতে কিছু তামা মিশে যেতে পারে। পাত্র পুরোনো, ক্ষয়প্রাপ্ত বা অনুপযুক্ত হলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তবে এর অর্থ সব পিতলের বাসনেই সীসা রয়েছে—এমন নয়। বাসনের মান, প্রস্তুতকারক এবং খাবারের সংস্পর্শে ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ বাসনটি কোন ধাতুর তৈরি তার চেয়ে সেটি মানসম্মত কি না, খাবারের জন্য উপযোগী কি না এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, তামা বা পিতলের বাসন ব্যবহার মানেই স্বাস্থ্যঝুঁকি—এমনটি যেমন ঠিক নয়, তেমনি ঐতিহ্যবাহী বলেই এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর—এমন দাবিও করা যায় না। মানসম্মত, খাবার-উপযোগী এবং অক্ষত বাসন ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একসময় বাঙালি বাড়িতে তামা ও পিতলের বাসনের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। বর্তমানে স্টিল, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম ও ননস্টিকের মতো আধুনিক বাসনের কারণে সেই ব্যবহার অনেকটাই কমেছে। তবে ঐতিহ্যবাহী বাসনের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় অনেকের রান্নাঘরে আবারও জায়গা করে নিচ্ছে তামা ও পিতলের থালা, বাটি, গ্লাস ও হাঁড়ি।
এসব বাসন নিয়ে নানা স্বাস্থ্য উপকারের কথা প্রচলিত থাকলেও শুধু ধাতুর নামের ওপর ভিত্তি করে কোনো বাসনকে নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলা যায় না। বাসনের গঠন, ভেতরের আবরণ, খাবারের ধরন এবং ব্যবহারের পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া সব পিতলের বাসন একই উপাদানে তৈরি নয়। কিছু পণ্যে অন্যান্য ধাতুও থাকতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের বা অজানা উৎসের পিতলের বাসনে সীসার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই খাবারের সংস্পর্শে ব্যবহারের জন্য তৈরি মানসম্মত বাসন বেছে নেওয়া জরুরি।
তবে অতিরিক্ত তামা শরীরে প্রবেশ করলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সংস্পর্শে থাকলে আরও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই তামার বাসন ব্যবহার করা যাবে না বিষয়টি এমন নয়। বরং খাবারের সঙ্গে সরাসরি তামার সংস্পর্শ হচ্ছে কি না এবং বাসনটির অবস্থা কেমন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে অনেক তামার রান্নার পাত্রের ভেতরে অন্য ধাতুর আবরণ দেওয়া থাকে। এই আবরণ খাবার ও তামার সরাসরি সংস্পর্শ কমাতে সাহায্য করে। তবে আবরণ উঠে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওই পাত্র ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
তামার পাত্রে দীর্ঘ সময় পানি রাখলে তাতে কিছু তামা মিশে যেতে পারে। পাত্র পুরোনো, ক্ষয়প্রাপ্ত বা অনুপযুক্ত হলে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তবে এর অর্থ সব পিতলের বাসনেই সীসা রয়েছে—এমন নয়। বাসনের মান, প্রস্তুতকারক এবং খাবারের সংস্পর্শে ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ বাসনটি কোন ধাতুর তৈরি তার চেয়ে সেটি মানসম্মত কি না, খাবারের জন্য উপযোগী কি না এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, তামা বা পিতলের বাসন ব্যবহার মানেই স্বাস্থ্যঝুঁকি—এমনটি যেমন ঠিক নয়, তেমনি ঐতিহ্যবাহী বলেই এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর—এমন দাবিও করা যায় না। মানসম্মত, খাবার-উপযোগী এবং অক্ষত বাসন ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
