যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে উচ্চবিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুমোদন করেছে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন (SBOE)। ২০২৬ সালে অনুমোদিত নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ডে ইতিহাস শিক্ষাকে আরও কালানুক্রমিক কাঠামোয় সাজানোর কথা জানিয়েছে বোর্ড। নতুন মানদণ্ড ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে মধ্যযুগীয় মুসলিম গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি। সমালোচকদের দাবি, বীজগণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে মুসলিম পণ্ডিতদের অবদান আগের তুলনায় কম গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে টেক্সাসের সরকারি নথিতে আল-খোয়ারিজমির নাম বাদ দেওয়াকে আলাদাভাবে ‘মুছে ফেলা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
আল-খোয়ারিজমি নবম শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ গণিতবিদদের একজন। তার আল-কিতাব আল-মুখতাসার ফি হিসাব আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা গ্রন্থের নামের ‘আল-জাবর’ শব্দ থেকেই পরবর্তীতে ‘algebra’ শব্দটির প্রচলন ঘটে।
টেক্সাসের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ড নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, হলোকাস্ট ও ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস কীভাবে পড়ানো হবে। ২০২৬ সালের সরকারি নথির একটি পূর্ববর্তী খসড়ায় হলোকাস্টের কারণ ও পরিণতি, নাৎসি জার্মানির ইহুদি গণহত্যা এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট একসঙ্গে ব্যাখ্যার নির্দেশনা ছিল।
পরবর্তী সংশোধিত মানদণ্ডে এসব বিষয় আলাদা উপাদানে ভাগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ইতিহাস, ইহুদি জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন নির্দেশনাও যুক্ত হয়েছে।
টেক্সাস শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান TEKS-এর লক্ষ্য হলো ইতিহাসকে আরও কালানুক্রমিকভাবে পড়ানো এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, ঘটনা ও ধারণার পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝানো। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন তথ্যের বদলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বোঝানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন মানদণ্ড ২০২৬ সালে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করেছে এবং এর বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাসামগ্রী তৈরির জন্য আলাদা সময়সূচি রয়েছে। টেক্সাস শিক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাসামগ্রী পরবর্তী নির্ধারিত চক্রে পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে আল-খোয়ারিজমি ও মুসলিম সভ্যতার বৈজ্ঞানিক অবদান পাঠ্যক্রমে কীভাবে উপস্থাপিত হবে, এবং হলোকাস্ট ও ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের পরিবর্তিত কাঠামো শিক্ষার্থীদের ইতিহাসবোধে কী প্রভাব ফেলবে—এসব নিয়ে শিক্ষা ও ইতিহাস সংশ্লিষ্ট মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে উচ্চবিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুমোদন করেছে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন (SBOE)। ২০২৬ সালে অনুমোদিত নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ডে ইতিহাস শিক্ষাকে আরও কালানুক্রমিক কাঠামোয় সাজানোর কথা জানিয়েছে বোর্ড। নতুন মানদণ্ড ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে মধ্যযুগীয় মুসলিম গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি। সমালোচকদের দাবি, বীজগণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে মুসলিম পণ্ডিতদের অবদান আগের তুলনায় কম গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে টেক্সাসের সরকারি নথিতে আল-খোয়ারিজমির নাম বাদ দেওয়াকে আলাদাভাবে ‘মুছে ফেলা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
আল-খোয়ারিজমি নবম শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ গণিতবিদদের একজন। তার আল-কিতাব আল-মুখতাসার ফি হিসাব আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা গ্রন্থের নামের ‘আল-জাবর’ শব্দ থেকেই পরবর্তীতে ‘algebra’ শব্দটির প্রচলন ঘটে।
টেক্সাসের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ড নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, হলোকাস্ট ও ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস কীভাবে পড়ানো হবে। ২০২৬ সালের সরকারি নথির একটি পূর্ববর্তী খসড়ায় হলোকাস্টের কারণ ও পরিণতি, নাৎসি জার্মানির ইহুদি গণহত্যা এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট একসঙ্গে ব্যাখ্যার নির্দেশনা ছিল।
পরবর্তী সংশোধিত মানদণ্ডে এসব বিষয় আলাদা উপাদানে ভাগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের ইতিহাস, ইহুদি জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন নির্দেশনাও যুক্ত হয়েছে।
টেক্সাস শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান TEKS-এর লক্ষ্য হলো ইতিহাসকে আরও কালানুক্রমিকভাবে পড়ানো এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, ঘটনা ও ধারণার পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝানো। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন তথ্যের বদলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বোঝানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন মানদণ্ড ২০২৬ সালে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করেছে এবং এর বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাসামগ্রী তৈরির জন্য আলাদা সময়সূচি রয়েছে। টেক্সাস শিক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাসামগ্রী পরবর্তী নির্ধারিত চক্রে পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে আল-খোয়ারিজমি ও মুসলিম সভ্যতার বৈজ্ঞানিক অবদান পাঠ্যক্রমে কীভাবে উপস্থাপিত হবে, এবং হলোকাস্ট ও ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের পরিবর্তিত কাঠামো শিক্ষার্থীদের ইতিহাসবোধে কী প্রভাব ফেলবে—এসব নিয়ে শিক্ষা ও ইতিহাস সংশ্লিষ্ট মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
