রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আঞ্চলিক কেন্দ্র

চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে গড়তে সরকারের মহাপরিকল্পনা

চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে গড়তে সরকারের মহাপরিকল্পনা
ছবি : চেকপোস্ট

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমাত্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সমুদ্রবন্দর, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন বন্দর এবং আধুনিক রেল যোগাযোগকে ঘিরে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের স্বতন্ত্র সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়েই জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রামের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এ অঞ্চলকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি আধুনিক ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বন্দর নির্মাণ, বিদ্যমান বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি আরও জানান, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নকাজ শেষ হলে রাজধানী ও বন্দরনগরীর মধ্যে ট্রেন চলাচলের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে বলে জানান তিনি। এতে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে এবং দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও বন্দর কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়বে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়িকে ঘিরেও বৃহৎ শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে উন্নয়ন, অবকাঠামো ও বিনিয়োগভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমেই একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI), পুঁজিবাজারে বিদেশি অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

#চট্টগ্রাম #অর্থনীতি #লজিস্টিক_হাব

চেকপোস্ট

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে গড়তে সরকারের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমাত্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সমুদ্রবন্দর, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন বন্দর এবং আধুনিক রেল যোগাযোগকে ঘিরে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের স্বতন্ত্র সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়েই জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রামের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এ অঞ্চলকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি আধুনিক ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বন্দর নির্মাণ, বিদ্যমান বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি আরও জানান, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নকাজ শেষ হলে রাজধানী ও বন্দরনগরীর মধ্যে ট্রেন চলাচলের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে বলে জানান তিনি। এতে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হবে এবং দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও বন্দর কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়বে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়িকে ঘিরেও বৃহৎ শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে উন্নয়ন, অবকাঠামো ও বিনিয়োগভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমেই একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI), পুঁজিবাজারে বিদেশি অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত