সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বিকল্প চাষের পরামর্শ কৃষি বিভাগের

কুড়িগ্রামে বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট, প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

কুড়িগ্রামে বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট, প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
ছবি : চেকপোস্ট

কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র। তলিয়ে থাকা জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল। মাঠজুড়ে বিরাজ করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

রোববার (৫ জুলাই) জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে পটল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। এক দফা বন্যাতেই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নতুন করে মরিচ, বেগুন, শসা ও শাকজাতীয় ফসল চাষের পরামর্শ দিয়েছেন কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, এসব ফসল চাষ সম্ভব না হলে মাসকলাই লাভজনক বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি আবারও বন্যার আশঙ্কা থাকায় উঁচু জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। তবে পাট বড় হয়ে যাওয়ায় এ ফসলের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেও জানান।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বন্যার পানিতে তার বিভিন্ন ধরনের সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করবেন, তা ভেবে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একই এলাকার কৃষক আবু বকর বলেন, তার বেগুন ও পটলের ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের সহায়তা ছাড়া আবার ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সম্পন্ন করে কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আর দুই-এক দিনের মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

#বন্যা #কুড়িগ্রাম #ফসলেরক্ষতি

চেকপোস্ট

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


কুড়িগ্রামে বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট, প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র। তলিয়ে থাকা জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল। মাঠজুড়ে বিরাজ করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

রোববার (৫ জুলাই) জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে পটল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। এক দফা বন্যাতেই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নতুন করে মরিচ, বেগুন, শসা ও শাকজাতীয় ফসল চাষের পরামর্শ দিয়েছেন কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, এসব ফসল চাষ সম্ভব না হলে মাসকলাই লাভজনক বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি আবারও বন্যার আশঙ্কা থাকায় উঁচু জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। তবে পাট বড় হয়ে যাওয়ায় এ ফসলের তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেও জানান।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বন্যার পানিতে তার বিভিন্ন ধরনের সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করবেন, তা ভেবে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একই এলাকার কৃষক আবু বকর বলেন, তার বেগুন ও পটলের ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের সহায়তা ছাড়া আবার ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সম্পন্ন করে কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আর দুই-এক দিনের মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত