রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

৫০ বছরের পুরোনো স্বপ্ন পুনর্জন্ম

উলাশি খাল পুনঃখননে ফিরছে কৃষি বিপ্লবের ইতিহাস

উলাশি খাল পুনঃখননে ফিরছে কৃষি বিপ্লবের ইতিহাস
ছবি: সংগৃহীত

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি খাল আবারও ফিরে আসছে আলোচনায়। একসময় যেটি কৃষি বিপ্লব ও গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতীক ছিল, দীর্ঘ অবহেলায় সেটিই এখন প্রায় ভরাট হয়ে বিলুপ্তির পথে।

তবে এবার সেই ঐতিহাসিক খাল পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর উদ্যোগে উলাশি খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) এই পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এটি কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং ৫০ বছরের পুরোনো ইতিহাসের পুনর্জাগরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

উলাশির মানুষ এখনো স্মরণ করে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বরের সেই দিনটি, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে খাল খননের সূচনা করেছিলেন। তার সেই প্রতীকী উদ্যোগই পরে গণমানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে রূপ নেয় এক বিশাল উন্নয়ন আন্দোলনে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, তখন হাজার হাজার মানুষ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন, রুটি-গুড় খেয়ে দিনভর খাল খননে অংশ নেন তারা। মাত্র কয়েক মাসেই প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়।

এই খাল একসময় প্রায় ২২ হাজার একর জমিকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে এবং কৃষি উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আনে। ইরি ও বোরো ধান চাষ বৃদ্ধি পেয়ে শার্শা অঞ্চল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়।

তবে সময়ের ব্যবধানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যায়। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষকরা আবারও জলাবদ্ধতা ও উৎপাদন সংকটে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি পুনরায় সচল হলে কৃষিতে বড় পরিবর্তন আসবে এবং জীবিকা সহজ হবে।

নতুন এই পুনঃখনন উদ্যোগকে স্থানীয়রা দেখছেন ইতিহাস ও উন্নয়নের সংযোগ হিসেবে। তাদের মতে, এটি শুধু খাল খনন নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ।

#যশোর #বাংলাদেশউন্নয়ন #উলাশিখাল

চেকপোস্ট

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


উলাশি খাল পুনঃখননে ফিরছে কৃষি বিপ্লবের ইতিহাস

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি খাল আবারও ফিরে আসছে আলোচনায়। একসময় যেটি কৃষি বিপ্লব ও গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতীক ছিল, দীর্ঘ অবহেলায় সেটিই এখন প্রায় ভরাট হয়ে বিলুপ্তির পথে।

তবে এবার সেই ঐতিহাসিক খাল পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর উদ্যোগে উলাশি খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) এই পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এটি কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং ৫০ বছরের পুরোনো ইতিহাসের পুনর্জাগরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

উলাশির মানুষ এখনো স্মরণ করে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বরের সেই দিনটি, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে খাল খননের সূচনা করেছিলেন। তার সেই প্রতীকী উদ্যোগই পরে গণমানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে রূপ নেয় এক বিশাল উন্নয়ন আন্দোলনে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, তখন হাজার হাজার মানুষ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন, রুটি-গুড় খেয়ে দিনভর খাল খননে অংশ নেন তারা। মাত্র কয়েক মাসেই প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়।

এই খাল একসময় প্রায় ২২ হাজার একর জমিকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে এবং কৃষি উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আনে। ইরি ও বোরো ধান চাষ বৃদ্ধি পেয়ে শার্শা অঞ্চল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়।

তবে সময়ের ব্যবধানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যায়। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষকরা আবারও জলাবদ্ধতা ও উৎপাদন সংকটে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি পুনরায় সচল হলে কৃষিতে বড় পরিবর্তন আসবে এবং জীবিকা সহজ হবে।

নতুন এই পুনঃখনন উদ্যোগকে স্থানীয়রা দেখছেন ইতিহাস ও উন্নয়নের সংযোগ হিসেবে। তাদের মতে, এটি শুধু খাল খনন নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত