ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি মোঃ জিহান বাবু।
শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) ইস্যু হয়েছে, পরীক্ষার হলে সিটও বরাদ্দ ছিল তবুও কেবল প্রধান শিক্ষিকার ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রহস্যজনক হঠকারিতার বলি হলো এক মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। নওগাঁর ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিয়া ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানার প্রবেশপত্র লুকিয়ে রাখা এবং তাকে পরীক্ষার হল থেকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার মতো ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর একটি বছর কেবল নষ্টই হয়নি, বরং মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শিক্ষার্থী এখন জীবন নিয়ে শঙ্কিত।
হল থেকে বের করে দেওয়ার ‘খলনায়িকা’ প্রধান শিক্ষিকা, সরেজমিনে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফারজানা যথানিয়মে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে নিজের নির্ধারিত আসনে বসে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে প্রধান শিক্ষিকা সাবিয়া ইয়াসমিন ঝড়ের বেগে হলে প্রবেশ করে তাকে পরীক্ষা দিতে নিষেধ করেন। শিক্ষার্থী ও তার পরিবার জানায়, বোর্ড থেকে আসা তার বৈধ অ্যাডমিট কার্ডটি প্রধান শিক্ষিকা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখেন এবং তাকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেন। একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীর আসন থেকে তুলে দিয়ে হল থেকে বের করে দিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তথ্যের বদলে ধমক ও চা-কৌশল, ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকা সাবিয়া ইয়াসমিনের মুখোমুখি হলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আপনারা অফিসে আসেন।” তথ্যের বদলে সাংবাদিকদের ‘অফিসে ডাকার’ এই কৌশলকে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের অনিয়ম ঢাকতে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
প্রশাসনের আলটিমেটাম, এই অমানবিক ঘটনার খবর পৌঁছেছে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে। ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং অমানবিক। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই। যদি বোর্ড থেকে অ্যাডমিট আসার পর তা শিক্ষার্থীকে না দেওয়া হয় এবং সিটে বসার পর তাকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনরোষ ও বিচার দাবি,এদিকে, অভিযুক্ত এই প্রধান শিক্ষিকার অপকর্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বলছেন, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ‘ক্রাইম’। এমন ‘দানবীয়’ আচরণের অধিকারী শিক্ষিকাকে অবিলম্বে বহিষ্কার এবং আইনি আওতায় এনে মেধাবী শিক্ষার্থী ফারজানার ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি মোঃ জিহান বাবু।
শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) ইস্যু হয়েছে, পরীক্ষার হলে সিটও বরাদ্দ ছিল তবুও কেবল প্রধান শিক্ষিকার ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রহস্যজনক হঠকারিতার বলি হলো এক মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। নওগাঁর ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিয়া ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানার প্রবেশপত্র লুকিয়ে রাখা এবং তাকে পরীক্ষার হল থেকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার মতো ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর একটি বছর কেবল নষ্টই হয়নি, বরং মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শিক্ষার্থী এখন জীবন নিয়ে শঙ্কিত।
হল থেকে বের করে দেওয়ার ‘খলনায়িকা’ প্রধান শিক্ষিকা, সরেজমিনে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফারজানা যথানিয়মে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে নিজের নির্ধারিত আসনে বসে। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে প্রধান শিক্ষিকা সাবিয়া ইয়াসমিন ঝড়ের বেগে হলে প্রবেশ করে তাকে পরীক্ষা দিতে নিষেধ করেন। শিক্ষার্থী ও তার পরিবার জানায়, বোর্ড থেকে আসা তার বৈধ অ্যাডমিট কার্ডটি প্রধান শিক্ষিকা নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখেন এবং তাকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেন। একজন শিক্ষক হয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীর আসন থেকে তুলে দিয়ে হল থেকে বের করে দিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তথ্যের বদলে ধমক ও চা-কৌশল, ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকা সাবিয়া ইয়াসমিনের মুখোমুখি হলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আপনারা অফিসে আসেন।” তথ্যের বদলে সাংবাদিকদের ‘অফিসে ডাকার’ এই কৌশলকে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের অনিয়ম ঢাকতে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
প্রশাসনের আলটিমেটাম, এই অমানবিক ঘটনার খবর পৌঁছেছে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে। ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং অমানবিক। একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই। যদি বোর্ড থেকে অ্যাডমিট আসার পর তা শিক্ষার্থীকে না দেওয়া হয় এবং সিটে বসার পর তাকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনরোষ ও বিচার দাবি,এদিকে, অভিযুক্ত এই প্রধান শিক্ষিকার অপকর্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বলছেন, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি একটি পরিকল্পিত ‘ক্রাইম’। এমন ‘দানবীয়’ আচরণের অধিকারী শিক্ষিকাকে অবিলম্বে বহিষ্কার এবং আইনি আওতায় এনে মেধাবী শিক্ষার্থী ফারজানার ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
