শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

পুলিশের একাধিক টিম মাঠে

অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছ হত্যা: দুই দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছ হত্যা: দুই দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ
ছবি: প্রতিকী

যশোরের অভয়নগরে আলোচিত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যা মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নওয়াপাড়া এলাকায় আতঙ্ক ও তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন— উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদ হোসেনের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ হোসেন (৩৮), একই গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাসির উদ্দীন (৩২) এবং অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওয়াপাড়া পীরবাড়ী মসজিদের সামনে নিজ নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন ‘আনিছ ট্রেড ভ্যালী’র ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদসহ ৫/৬ জন সেখানে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মুখের বাম পাশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভাড়া বাসা সংক্রান্ত বিরোধ ও এক রহস্যময় নারীকে ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল কয়েকজন ব্যক্তি আনিছ ট্রেড ভ্যালীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে যান। সেখানে একজন নারী থাকবেন বলে জানানো হয়। প্রথমে আনিছুর রহমান ১১ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় বাসা দিতে রাজি হন এবং অগ্রিম ভাড়াও গ্রহণ করেন। পরে ওই নারী সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার পর তিনি বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা ফেরত দেন। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সেই ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

তবে রহস্যময় ওই নারীর পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

নিহত আনিছুর রহমান, যিনি এলাকায় ‘বড় আনিছ’ নামে পরিচিত ছিলেন, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মজিদ বক্স সরদারের ছেলে। তিনি নওয়াপাড়া বাজারের সার আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন। পাশাপাশি নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

#অভয়নগর_হত্যা #যশোর_সংবাদ #আনিছ_হত্যা_রহস্য

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছ হত্যা: দুই দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

যশোরের অভয়নগরে আলোচিত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যা মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নওয়াপাড়া এলাকায় আতঙ্ক ও তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন— উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদ হোসেনের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ হোসেন (৩৮), একই গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাসির উদ্দীন (৩২) এবং অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওয়াপাড়া পীরবাড়ী মসজিদের সামনে নিজ নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন ‘আনিছ ট্রেড ভ্যালী’র ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদসহ ৫/৬ জন সেখানে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মুখের বাম পাশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভাড়া বাসা সংক্রান্ত বিরোধ ও এক রহস্যময় নারীকে ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল কয়েকজন ব্যক্তি আনিছ ট্রেড ভ্যালীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে যান। সেখানে একজন নারী থাকবেন বলে জানানো হয়। প্রথমে আনিছুর রহমান ১১ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় বাসা দিতে রাজি হন এবং অগ্রিম ভাড়াও গ্রহণ করেন। পরে ওই নারী সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার পর তিনি বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা ফেরত দেন। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সেই ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

তবে রহস্যময় ওই নারীর পরিচয় এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

নিহত আনিছুর রহমান, যিনি এলাকায় ‘বড় আনিছ’ নামে পরিচিত ছিলেন, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মজিদ বক্স সরদারের ছেলে। তিনি নওয়াপাড়া বাজারের সার আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন। পাশাপাশি নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত