মাধবপুরে নিরপরাধীদের আটক ও টাকা আদায়ের অভিযোগ
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিরপরাধ ব্যক্তিদের আটক, নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগে মাধবপুর থানার এসআই নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোছাঃ ইয়াছমিন খাতুন স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক আদেশে এসআই নাজমুলকে মাধবপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরপরাধ মানুষদের থানায় আটক রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিতেন বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডে পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি জনগণের কাছে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল হক মুন্সী-কে। তিনি ইতোমধ্যে অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ জানুয়ারি কামরুল হাসান (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে কোনো মামলা, অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী জব্দ করা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তাকে ডাকাতি ও মাদকসহ গুরুতর মামলায় আসামি করার ভয় দেখানো হয়। মানসিক চাপে ফেলে তার মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা আনতে বলা হয়। পরে তার ছোট ভাই মোশারফ মিয়া ৫০ হাজার টাকা থানায় নিয়ে গিয়ে এসআই নাজমুলের হাতে তুলে দেন। কিন্তু এরপরও কামরুলকে মুক্তি না দিয়ে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় কামরুলকে একটি পুরোনো মামলা (নং-৩৮)-এর তদন্তে প্রাপ্ত আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠান।
এসআই নাজমুলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার গণমাধ্যমকর্মী ফরাস উদ্দিন, মোশারফ মিয়া ও আবু আল মুর্শেদ মানসিন আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল হক মুন্সী বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত