খুলনায় আনন্দঘন পরিবেশে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা আয়োজনে আনন্দঘন পরিবেশে ১ লা বৈশাখে খুলনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়। খুলনা জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল বর্ষবরন, বৈশাখি শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, লোকজমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকালে রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গন থেকে বৈশাখি শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে শহিদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের - কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে খুলনা শহিদ হাদিস পার্কে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও লোকজমেলা অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ( ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সার্বজনিন উৎসব। বাঙালির লোক সংস্কৃতির সাথে বাংলা নববর্ষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি আরো বলেন, বিগত বছরের যত গ্নানি মুছে ফেলে নতুনবর্ষে আমরা নতুন করে শুরু করি। আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে গনতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ঐক্যবদ্ধ, রাস্ট্রিয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা আশা করছি সুন্দর উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মান করবো।
এটাই হোক আমাদের নববর্ষের সকল আকাংখা, আমরা সবাই মিলে খুলনাসহ সমগ্র বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর জনপদে রুপান্তর করবো এবং দেশের উন্নয়নে সবাই মিলে অংশগ্রহণ করবো। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ( উন্নয়ন) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম, সরকারি - বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক - সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নববর্ষ উপলক্ষ্যে জেলা কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবার, এতিমখানা সমুহে ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার পরিবেশন এবং শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদি প্রদর্শনী, কারাবন্দীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাটক প্রদর্শন করা হয়। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্ব - স্ব ব্যাবস্থাপনায় উৎসব মুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে। পহেলা বৈশাখে শহিদ হাদিস পার্কে দিনব্যাপী লোকজমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া বর্নিল আয়োজনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ( খুবি) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশাখি মেলা ও নববর্ষের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বাঙালির প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে মেতেছে খুবি ও কুয়েটের ক্যাম্পাস। বষবরন উপলক্ষ্যে আয়োজিত তিনদিন ব্যাপী বৈশাখি মেলার শেষ দিনে খুবিতে ১৪ এপ্রিল খুলনার সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাহারি পোশাক আর শিক্ষার্থীদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ পুরো ক্যাম্পাসে যেন এক টুকরো লাল- সাদা উৎসব।
মেলার মুল আকর্ষন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে দেওয়া নান্দনিক স্টল। গ্রাম - বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রতিটি স্টল সাজানো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে। স্টল গুলোতে পাওয়া যায় বাহারি সব নকশি পিঠা, পুলি পিঠা,চিতই পিঠা। গরমে প্রশান্তি মিটাতে টাটকা আখের রস এবং তরুন- তরুনীদের পছন্দের তালিকা শীর্ষে থাকা চটপটি - ফুসকা।
মেয়েদের জন্য রেশমি চুড়ি, মাটির গয়না ও দেশিয় হস্তশিল্পের বিপুল সমাহার। এছাড়া ও শিশুদের জন্য নাগোরদোলা, বিভিন্ন রাইড, বল খেলা সহ নানা খেলার আয়োজন। সকাল থেকেই খুলনার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে। বিশেষ করে উঠতি বয়সি তরুনীদের লাল- সাদা শাড়ি আর তরুনদের পাঞ্জাবিতে ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে বর্নিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ও দেখাগেছে উৎসবের বাড়তি আমেজ ও উদ্দিপনা। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গুলোতে চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজমেলা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানের সাথে সাথে নেচে গেয়ে মন মাতান উপস্থিত সকলে।
এর আগে তিনদিন ব্যাপী আয়োজিত উৎসবের দ্ধিতীয় দিন বাংলা ১৪৩২ চৈত্র সংক্রান্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ( খুবিতে) ঘুড়ি উৎসবের উদ্ধোধন করেন খুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। ঘুড়ি উৎসব ঘিরে ক্যাম্পাসের মাঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি খুলনার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুন- তরুনী, শিশু কিশোরদের ঘুড়ি উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায়। সেখানে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত