বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প প্রায় তিন দশক পেরিয়েও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি একাধিক সরকারের উদ্যোগ, জমি অধিগ্রহণ ও আংশিক উন্নয়নকাজের পরও আজ কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় দেখা যায় শুধু কিছু সীমানা পিলার ও আংশিক ভরাট জমি যা অপূর্ণ স্বপ্নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রকল্পটি শর্ট টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (STOL) বিমানবন্দর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় প্রায় ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ এবং আংশিক ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে মহাজোট সরকার প্রকল্পটিকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে আরও ৬২৬ দশমিক ৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালে একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় এবং একই বছরের জুলাই মাসে কাজ পুনরায় শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পরিবর্তে কেবল কিছু পিলার স্থাপন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামো আর গড়ে ওঠেনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৩৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অগ্রিম ৪৩ কোটি টাকা পরিশোধও করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। পরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগকারী খোঁজা হলেও কোনো আগ্রহী প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় প্রকল্পটি কার্যত স্থগিত হয়ে পড়ে।
এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এবং মোংলা ইপিজেড ঘিরে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মিত হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে, বাড়বে পর্যটন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিমানবন্দরটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসত। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, নীতিগত পরিবর্তন ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেই সম্ভাবনা এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ সময়ের দাবি। যথাযথ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক করিডোরে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকার প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে এবং দীর্ঘদিনের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প প্রায় তিন দশক পেরিয়েও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি একাধিক সরকারের উদ্যোগ, জমি অধিগ্রহণ ও আংশিক উন্নয়নকাজের পরও আজ কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় দেখা যায় শুধু কিছু সীমানা পিলার ও আংশিক ভরাট জমি যা অপূর্ণ স্বপ্নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রকল্পটি শর্ট টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (STOL) বিমানবন্দর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় প্রায় ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ এবং আংশিক ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে মহাজোট সরকার প্রকল্পটিকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে আরও ৬২৬ দশমিক ৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালে একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় এবং একই বছরের জুলাই মাসে কাজ পুনরায় শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পরিবর্তে কেবল কিছু পিলার স্থাপন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামো আর গড়ে ওঠেনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫৩৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অগ্রিম ৪৩ কোটি টাকা পরিশোধও করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে। পরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগকারী খোঁজা হলেও কোনো আগ্রহী প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় প্রকল্পটি কার্যত স্থগিত হয়ে পড়ে।
এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এবং মোংলা ইপিজেড ঘিরে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মিত হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে, বাড়বে পর্যটন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিমানবন্দরটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসত। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, নীতিগত পরিবর্তন ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সেই সম্ভাবনা এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে একটি আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ সময়ের দাবি। যথাযথ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক করিডোরে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকার প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে এবং দীর্ঘদিনের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।
