সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে প্লাবন, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে প্লাবন, পানিবন্দি হাজারো মানুষ
হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত। ছবি : সংগৃহীত

দেড় মাসের ব্যবধানেই আবারও হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বীজতলা ও শাকসবজির খেত।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় মেরামত করা প্রতিরক্ষা বাঁধের অংশে ফের ভাঙন দেখা দেয়।

বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। সদর উপজেলার লস্করপুর ও পৈল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং বাহুবল উপজেলার লাতাশি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানি ঢুকে পড়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থায়ী সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার না করায় বারবার ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। আগের ভাঙনের পর মেরামত কাজ শুরু হলেও তা শেষ না হওয়ায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজ শুরু করলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তাদের দাবি, দ্রুত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে নদী তীরবর্তী মানুষকে।

কৃষিতে বড় ক্ষতির আশঙ্কা

বন্যার পানিতে হবিগঞ্জের কৃষিতেও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পানিতে ১২৫ হেক্টর পাকা আমন ধান, ৯৫ হেক্টর রোপা আমন, ২২ হেক্টর বীজতলা এবং ২৫ হেক্টর শাকসবজির খেত তলিয়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কম হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন জমিতে পানি থাকলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে লস্করপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। সেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই আবারও ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

#খোয়াইনদী #হবিগঞ্জেরখবর #বন্যাপরিস্থিতি

চেকপোস্ট

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


হবিগঞ্জে বাঁধ ভেঙে প্লাবন, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেড় মাসের ব্যবধানেই আবারও হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বীজতলা ও শাকসবজির খেত।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় মেরামত করা প্রতিরক্ষা বাঁধের অংশে ফের ভাঙন দেখা দেয়।

বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। সদর উপজেলার লস্করপুর ও পৈল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং বাহুবল উপজেলার লাতাশি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানি ঢুকে পড়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থায়ী সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার না করায় বারবার ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। আগের ভাঙনের পর মেরামত কাজ শুরু হলেও তা শেষ না হওয়ায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজ শুরু করলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তাদের দাবি, দ্রুত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে নদী তীরবর্তী মানুষকে।

কৃষিতে বড় ক্ষতির আশঙ্কা

বন্যার পানিতে হবিগঞ্জের কৃষিতেও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পানিতে ১২৫ হেক্টর পাকা আমন ধান, ৯৫ হেক্টর রোপা আমন, ২২ হেক্টর বীজতলা এবং ২৫ হেক্টর শাকসবজির খেত তলিয়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কম হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন জমিতে পানি থাকলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে লস্করপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। সেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই আবারও ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত