মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

তদন্তের আশ্বাস জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার

সৈয়দপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

সৈয়দপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওই বরাদ্দের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, ঘুষ না দেওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার (স্লিপ) বরাদ্দের চেকে স্বাক্ষর করছেন না ওই কর্মকর্তা। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রধান শিক্ষক নিজ অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দের টাকা পাওয়ার পর তা উপজেলা অফিসে স্বাক্ষরের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের সরকারি ল্যাপটপ, বজ্রনিরোধক যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও বিদ্যালয়ভিত্তিক মোবাইল সিম নিজের কাছে রাখার অভিযোগও করেছেন প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়ম মেনে বিদ্যালয় পরিচালনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নীলফামারী জেলা প্রশাসক, সৈয়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা বলেন, “অভিযোগকারী কোনো তথ্য-প্রমাণ বা ডকুমেন্টস দিয়েছেন কি না, সেটি আগে দেখতে হবে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। যেহেতু অভিযোগটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে, তাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

#সৈয়দপুর #প্রাথমিকশিক্ষা #দুর্নীতিরঅভিযোগ

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


সৈয়দপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওই বরাদ্দের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, ঘুষ না দেওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার (স্লিপ) বরাদ্দের চেকে স্বাক্ষর করছেন না ওই কর্মকর্তা। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রধান শিক্ষক নিজ অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দের টাকা পাওয়ার পর তা উপজেলা অফিসে স্বাক্ষরের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের সরকারি ল্যাপটপ, বজ্রনিরোধক যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও বিদ্যালয়ভিত্তিক মোবাইল সিম নিজের কাছে রাখার অভিযোগও করেছেন প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়ম মেনে বিদ্যালয় পরিচালনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নীলফামারী জেলা প্রশাসক, সৈয়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মরিয়ম নেছা বলেন, “অভিযোগকারী কোনো তথ্য-প্রমাণ বা ডকুমেন্টস দিয়েছেন কি না, সেটি আগে দেখতে হবে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি তিনি পেয়েছেন। যেহেতু অভিযোগটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে, তাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত