মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইল মসজিদ কমিটি

সৈয়দপুরে মসজিদের ওয়াকফ জমি নিয়ে বিরোধ, মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

সৈয়দপুরে মসজিদের ওয়াকফ জমি নিয়ে বিরোধ, মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় মসজিদের নামে ওয়াকফ করা জমি অপদখলের চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মসজিদ বায়তুস সালাম (ভাঙা মসজিদ)-এর নামে স্থানীয় বাসিন্দা মানিকুজ্জামান মানিক গত ১ এপ্রিল ৫০ শতক জমি ওয়াকফ করেন। তার দাবি, তিনি জমিটি ২০২৪ সালে তার বাবা হাজী মনসুর আলীর কাছ থেকে কিনেছেন। এর আগে ১৯৮৪ সালে মনসুর আলী তার বড় ভাই মকবুল হোসেনের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন।

মসজিদ কমিটির দাবি, গত ১৫ মে জমিতে আবাদ করার উদ্যোগ নিলে মকবুল হোসেন ও তার ছেলেরা বাধা দিয়ে জমির মালিকানা দাবি করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে মকবুল হোসেন নিজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আদালতের রায়ে জমির মালিকানা মকবুল হোসেনের পক্ষে প্রমাণিত হলে তারা জমি ছেড়ে দেবেন। এমনকি জমি থেকে যে আয় হবে, সেটিও হিসাব করে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা না মেনে উল্টো অপদখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, যদি মকবুল হোসেন প্রকৃত মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে দীর্ঘ ৪০ বছর জমির দখল নিয়ে কোনো দাবি বা আইনগত পদক্ষেপ কেন নেননি—সে প্রশ্নেরও উত্তর থাকা উচিত। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বাধা দেওয়ায় স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখানো ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এ সময় বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড সদস্য ও জামায়াত নেতা খলিলুর রহমান, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি জহির উদ্দিন লাল্টু, সহ-সভাপতি তাজির উদ্দিন ভুট্টু, জমিদাতার বাবা হাজী মনসুর আলীসহ কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মকবুল হোসেন বলেন, তিনি কখনো জমিটি বিক্রি করেননি এবং যে দলিল দেখানো হচ্ছে তা জাল। তার দাবি, এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি ভোগদখল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জমির দখল নিতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়েছে এবং তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। জমি মসজিদে দান করার ঘটনাটিও পরিকল্পিত বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই হবে বলে মন্তব্য করেন মকবুল হোসেন।

#সৈয়দপুর #মসজিদ_জমি_বিরোধ #ওয়াকফ_জমি

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


সৈয়দপুরে মসজিদের ওয়াকফ জমি নিয়ে বিরোধ, মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় মসজিদের নামে ওয়াকফ করা জমি অপদখলের চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মসজিদ বায়তুস সালাম (ভাঙা মসজিদ)-এর নামে স্থানীয় বাসিন্দা মানিকুজ্জামান মানিক গত ১ এপ্রিল ৫০ শতক জমি ওয়াকফ করেন। তার দাবি, তিনি জমিটি ২০২৪ সালে তার বাবা হাজী মনসুর আলীর কাছ থেকে কিনেছেন। এর আগে ১৯৮৪ সালে মনসুর আলী তার বড় ভাই মকবুল হোসেনের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন।

মসজিদ কমিটির দাবি, গত ১৫ মে জমিতে আবাদ করার উদ্যোগ নিলে মকবুল হোসেন ও তার ছেলেরা বাধা দিয়ে জমির মালিকানা দাবি করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে মকবুল হোসেন নিজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আদালতের রায়ে জমির মালিকানা মকবুল হোসেনের পক্ষে প্রমাণিত হলে তারা জমি ছেড়ে দেবেন। এমনকি জমি থেকে যে আয় হবে, সেটিও হিসাব করে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা না মেনে উল্টো অপদখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয়রা বলেন, যদি মকবুল হোসেন প্রকৃত মালিক হয়ে থাকেন, তাহলে দীর্ঘ ৪০ বছর জমির দখল নিয়ে কোনো দাবি বা আইনগত পদক্ষেপ কেন নেননি—সে প্রশ্নেরও উত্তর থাকা উচিত। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বাধা দেওয়ায় স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখানো ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এ সময় বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড সদস্য ও জামায়াত নেতা খলিলুর রহমান, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি জহির উদ্দিন লাল্টু, সহ-সভাপতি তাজির উদ্দিন ভুট্টু, জমিদাতার বাবা হাজী মনসুর আলীসহ কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মকবুল হোসেন বলেন, তিনি কখনো জমিটি বিক্রি করেননি এবং যে দলিল দেখানো হচ্ছে তা জাল। তার দাবি, এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি ভোগদখল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জমির দখল নিতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়েছে এবং তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। জমি মসজিদে দান করার ঘটনাটিও পরিকল্পিত বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই হবে বলে মন্তব্য করেন মকবুল হোসেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত