বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি যুবকরা

রাশিয়ায় চাকরির ফাঁদ, গোপালগঞ্জের ৩ যুবক রুশ সেনা ক্যাম্পে!

রাশিয়ায় চাকরির ফাঁদ, গোপালগঞ্জের ৩ যুবক রুশ সেনা ক্যাম্পে!
ছবি: চেকপোস্ট

বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভনে গোপালগঞ্জের তিন যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রুশ সেনা ক্যাম্পে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর সামরিক পরিবেশে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের পলাশ শেখ, সিতারকুল গ্রামের রনি এবং বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লা।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঢাকার নিকুঞ্জভিত্তিক রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে গত ৭ মে তিন যুবকসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠায়।

রনির স্ত্রী তিশা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে অডিও বার্তা ও এসএমএসে রনি জানান, বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “গত ১৮ মে শেষবার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জানিয়েছে, তারা ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি একটি ক্যাম্পে রয়েছে এবং চারপাশে সবসময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।”

একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সৌরভ মোল্লার স্বজনরাও। তাদের দাবি, ভিডিও কলে সৌরভকে সামরিক পরিবেশে দেখা গেছে এবং তার আচরণও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

পলাশ শেখের স্বজনদের অভিযোগ, চাকরির নামে তাকে রাশিয়ায় পাঠিয়ে পরে রুশ সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে তারা জানতে পারেন, কর্মীরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি যেহেতু বৈধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই প্রথমে বিএমইটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আপাতত অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

পরিবারগুলোর দাবি, বাংলাদেশ সরকার দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তাদের স্বজনদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।

#গোপালগঞ্জ_সংবাদ #রাশিয়া_চাকরি_প্রতারণা #বাংলাদেশি_যুবক

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


রাশিয়ায় চাকরির ফাঁদ, গোপালগঞ্জের ৩ যুবক রুশ সেনা ক্যাম্পে!

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভনে গোপালগঞ্জের তিন যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রুশ সেনা ক্যাম্পে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের বিদেশে পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর সামরিক পরিবেশে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের পলাশ শেখ, সিতারকুল গ্রামের রনি এবং বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লা।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঢাকার নিকুঞ্জভিত্তিক রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে গত ৭ মে তিন যুবকসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠায়।

রনির স্ত্রী তিশা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে অডিও বার্তা ও এসএমএসে রনি জানান, বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “গত ১৮ মে শেষবার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জানিয়েছে, তারা ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি একটি ক্যাম্পে রয়েছে এবং চারপাশে সবসময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।”

একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সৌরভ মোল্লার স্বজনরাও। তাদের দাবি, ভিডিও কলে সৌরভকে সামরিক পরিবেশে দেখা গেছে এবং তার আচরণও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

পলাশ শেখের স্বজনদের অভিযোগ, চাকরির নামে তাকে রাশিয়ায় পাঠিয়ে পরে রুশ সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে তারা জানতে পারেন, কর্মীরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি যেহেতু বৈধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই প্রথমে বিএমইটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আপাতত অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

পরিবারগুলোর দাবি, বাংলাদেশ সরকার দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তাদের স্বজনদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত