সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কৌশল

বিমানের পর ক্লান্তি-ঘুমের সমস্যা? জানুন জেট ল্যাগ থেকে মুক্তির উপায়

বিমানের পর ক্লান্তি-ঘুমের সমস্যা? জানুন জেট ল্যাগ থেকে মুক্তির উপায়
ছবি : সংগৃহীত

দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের পর অনেকেরই রাতে ঘুম না আসা, দিনের বেলা অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধার সময় পরিবর্তন বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থাকে বলা হয় জেট ল্যাগ

এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সময় একাধিক টাইম জোন অতিক্রম করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি নতুন সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। ফলে ঘুম, হজম, শক্তি ও মেজাজে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দেয়।

জেট ল্যাগ কেন হয়?

মানবদেহে থাকা সার্কাডিয়ান রিদম বা প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি আলো, অন্ধকার ও দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমে ঘুম, জাগরণ এবং হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিমান দ্রুত কয়েকটি টাইম জোন অতিক্রম করলে শরীর আগের সময় অনুযায়ী চলতে থাকে, কিন্তু গন্তব্যের সময় হয় ভিন্ন। এই সময়ের অমিল থেকেই তৈরি হয় জেট ল্যাগ। সাধারণত তিনটির বেশি টাইম জোন পার হলে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হয়।

জেট ল্যাগের লক্ষণ

জেট ল্যাগের কারণে দেখা দিতে পারে—

  • রাতে ঘুম না আসা
  • দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব
  • শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • মাথাব্যথা
  • মেজাজ খিটখিটে হওয়া
  • ক্ষুধার সময় পরিবর্তন
  • বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা

সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই এসব সমস্যা কমে যায়।

কোন দিকে ভ্রমণে জেট ল্যাগ বেশি হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব দিকে ভ্রমণ করলে জেট ল্যাগ বেশি হতে পারে। কারণ এতে শরীরকে আগের তুলনায় দ্রুত ঘুমানো ও জাগার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

অন্যদিকে পশ্চিম দিকে ভ্রমণে দিনের সময় কিছুটা বাড়ে, যা অনেকের শরীর তুলনামূলক সহজে গ্রহণ করতে পারে।

কত দিনে শরীর স্বাভাবিক হয়?

জেট ল্যাগ কাটতে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করে ভ্রমণের দূরত্ব, অতিক্রান্ত টাইম জোন, বয়স, স্বাস্থ্য ও ঘুমের অভ্যাসের ওপর।

সাধারণভাবে একটি টাইম জোনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রায় এক দিন সময় লাগতে পারে। তবে ব্যক্তি ভেদে সময় কম-বেশি হতে পারে।

জেট ল্যাগ কমানোর উপায়

ভ্রমণের আগে ঘুমের সময় পরিবর্তন করুন:
যাত্রার কয়েক দিন আগে থেকেই গন্তব্য দেশের সময় অনুযায়ী ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করুন।

স্থানীয় সময় অনুসরণ করুন:
বিমানে ওঠার পর থেকেই ঘড়ি গন্তব্যের সময় অনুযায়ী মিলিয়ে নিন। পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় অনুযায়ী খাওয়া ও ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

সূর্যের আলো নিন:
প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবঘড়ি ঠিক করতে সাহায্য করে। তাই দিনের বেলা বাইরে কিছু সময় কাটানো উপকারী।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
দীর্ঘ বিমানযাত্রায় পানিশূন্যতা ক্লান্তি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।

ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন:
অতিরিক্ত কফি, চা বা অ্যালকোহল ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।

দিনে বেশি ঘুমাবেন না:
প্রয়োজনে ২০ থেকে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিতে পারেন, তবে দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জেট ল্যাগ কয়েক দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। তবে এক সপ্তাহের বেশি ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর জেট ল্যাগ একটি সাধারণ ও সাময়িক সমস্যা। সঠিক প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত পানি পান, আলোতে সময় কাটানো এবং স্থানীয় সময়ের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।

#স্বাস্থ্য_টিপস #জেট_ল্যাগ #বিমান_ভ্রমণ

চেকপোস্ট

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


বিমানের পর ক্লান্তি-ঘুমের সমস্যা? জানুন জেট ল্যাগ থেকে মুক্তির উপায়

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের পর অনেকেরই রাতে ঘুম না আসা, দিনের বেলা অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধার সময় পরিবর্তন বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থাকে বলা হয় জেট ল্যাগ

এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সময় একাধিক টাইম জোন অতিক্রম করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি নতুন সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। ফলে ঘুম, হজম, শক্তি ও মেজাজে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দেয়।

জেট ল্যাগ কেন হয়?

মানবদেহে থাকা সার্কাডিয়ান রিদম বা প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি আলো, অন্ধকার ও দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমে ঘুম, জাগরণ এবং হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিমান দ্রুত কয়েকটি টাইম জোন অতিক্রম করলে শরীর আগের সময় অনুযায়ী চলতে থাকে, কিন্তু গন্তব্যের সময় হয় ভিন্ন। এই সময়ের অমিল থেকেই তৈরি হয় জেট ল্যাগ। সাধারণত তিনটির বেশি টাইম জোন পার হলে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হয়।

জেট ল্যাগের লক্ষণ

জেট ল্যাগের কারণে দেখা দিতে পারে—

  • রাতে ঘুম না আসা
  • দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব
  • শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি
  • মনোযোগ কমে যাওয়া
  • মাথাব্যথা
  • মেজাজ খিটখিটে হওয়া
  • ক্ষুধার সময় পরিবর্তন
  • বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা

সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই এসব সমস্যা কমে যায়।

কোন দিকে ভ্রমণে জেট ল্যাগ বেশি হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব দিকে ভ্রমণ করলে জেট ল্যাগ বেশি হতে পারে। কারণ এতে শরীরকে আগের তুলনায় দ্রুত ঘুমানো ও জাগার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

অন্যদিকে পশ্চিম দিকে ভ্রমণে দিনের সময় কিছুটা বাড়ে, যা অনেকের শরীর তুলনামূলক সহজে গ্রহণ করতে পারে।

কত দিনে শরীর স্বাভাবিক হয়?

জেট ল্যাগ কাটতে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করে ভ্রমণের দূরত্ব, অতিক্রান্ত টাইম জোন, বয়স, স্বাস্থ্য ও ঘুমের অভ্যাসের ওপর।

সাধারণভাবে একটি টাইম জোনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রায় এক দিন সময় লাগতে পারে। তবে ব্যক্তি ভেদে সময় কম-বেশি হতে পারে।

জেট ল্যাগ কমানোর উপায়

ভ্রমণের আগে ঘুমের সময় পরিবর্তন করুন:
যাত্রার কয়েক দিন আগে থেকেই গন্তব্য দেশের সময় অনুযায়ী ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করুন।

স্থানীয় সময় অনুসরণ করুন:
বিমানে ওঠার পর থেকেই ঘড়ি গন্তব্যের সময় অনুযায়ী মিলিয়ে নিন। পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় অনুযায়ী খাওয়া ও ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

সূর্যের আলো নিন:
প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবঘড়ি ঠিক করতে সাহায্য করে। তাই দিনের বেলা বাইরে কিছু সময় কাটানো উপকারী।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
দীর্ঘ বিমানযাত্রায় পানিশূন্যতা ক্লান্তি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।

ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন:
অতিরিক্ত কফি, চা বা অ্যালকোহল ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে।

দিনে বেশি ঘুমাবেন না:
প্রয়োজনে ২০ থেকে ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিতে পারেন, তবে দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জেট ল্যাগ কয়েক দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। তবে এক সপ্তাহের বেশি ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের পর জেট ল্যাগ একটি সাধারণ ও সাময়িক সমস্যা। সঠিক প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত পানি পান, আলোতে সময় কাটানো এবং স্থানীয় সময়ের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত