বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

শিক্ষককে প্রেষণে বদলি, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মিছিল নতুন কর্মস্থলে

মাধবপুরে শিক্ষিকাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন, দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল

মাধবপুরে শিক্ষিকাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন, দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তারকে প্রেষণে অন্য বিদ্যালয়ে বদলির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

‎বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আফসানা আক্তারের নতুন কর্মস্থল ছাতিয়াইন ইউনিয়নের মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান।

‎সেখানে গিয়ে আফসানা আক্তারকে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

‎আফসানা আক্তার গত ১ সেপ্টেম্বর মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

‎শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, আফসানা আক্তার বিদ্যালয়ের পাঠদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। তাকে অন্য বিদ্যালয়ে প্রেষণে বদলি করায় সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই তার বদলির আদেশ বাতিল করে দ্রুত তাকে আগের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

‎তবে এই বদলির পেছনে ছুটির আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর সঙ্গে আফসানা আক্তারের বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

‎আফসানা আক্তারের অভিযোগ, গত জুলাই মাসে তিনি তিন দিনের ছুটির আবেদন করে ছুটি ভোগ করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার ছুটির আবেদন অনুমোদন না করে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে মাসিক এমআর শিক্ষা অফিসে পাঠান।

‎আফসানা আক্তার বলেন, “প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর কাছে আমার ছুটির আবেদন ছিল। এরপরও তিনি ছুটি মঞ্জুর না করে আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে এমআর পাঠান।”

‎অভিযোগটি অবশ্য ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ। তিনি বলেন, আফসানা আক্তার তার কাছ থেকে মৌখিকভাবে এক দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরও বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় তাকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

‎প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিষয়টি তিনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন এবং পরে তাকে জানানো হয় যে, আফসানা আক্তার খাতার মধ্যে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে গেছেন। বিষয়টি মীমাংসার কথাও বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

‎এদিকে কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর একে একে দুইজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

‎অন্যদিকে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য ওমর ফারুক জলপু বলেন, “সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে ওই শিক্ষককে ফেরত নেওয়ার দাবিতে। এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল হয়।”

‎বিষয়টি নিয়ে মাধবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, “সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তার ও প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর মধ্যে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। আফসানা আক্তারের সম্মতিতেই তাকে প্রেষণে বদলি করা হয়েছে।”

‎তিনি আরও বলেন, “আজকের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বহিরাগত লোকজনের সৃষ্টি। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।”

‎ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক বদলি নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলন এবং দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাধবপুরে শিক্ষিকাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধন, দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তারকে প্রেষণে অন্য বিদ্যালয়ে বদলির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

‎বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আফসানা আক্তারের নতুন কর্মস্থল ছাতিয়াইন ইউনিয়নের মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান।

‎সেখানে গিয়ে আফসানা আক্তারকে সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

‎আফসানা আক্তার গত ১ সেপ্টেম্বর মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

‎শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, আফসানা আক্তার বিদ্যালয়ের পাঠদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। তাকে অন্য বিদ্যালয়ে প্রেষণে বদলি করায় সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই তার বদলির আদেশ বাতিল করে দ্রুত তাকে আগের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

‎তবে এই বদলির পেছনে ছুটির আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর সঙ্গে আফসানা আক্তারের বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

‎আফসানা আক্তারের অভিযোগ, গত জুলাই মাসে তিনি তিন দিনের ছুটির আবেদন করে ছুটি ভোগ করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার ছুটির আবেদন অনুমোদন না করে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে মাসিক এমআর শিক্ষা অফিসে পাঠান।

‎আফসানা আক্তার বলেন, “প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর কাছে আমার ছুটির আবেদন ছিল। এরপরও তিনি ছুটি মঞ্জুর না করে আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে এমআর পাঠান।”

‎অভিযোগটি অবশ্য ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ। তিনি বলেন, আফসানা আক্তার তার কাছ থেকে মৌখিকভাবে এক দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরও বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় তাকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়।

‎প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিষয়টি তিনি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন এবং পরে তাকে জানানো হয় যে, আফসানা আক্তার খাতার মধ্যে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে গেছেন। বিষয়টি মীমাংসার কথাও বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

‎এদিকে কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর একে একে দুইজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

‎অন্যদিকে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য ওমর ফারুক জলপু বলেন, “সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মনিপুর এস এম শাহজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে ওই শিক্ষককে ফেরত নেওয়ার দাবিতে। এ সময় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোল হয়।”

‎বিষয়টি নিয়ে মাধবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, “সহকারী শিক্ষক আফসানা আক্তার ও প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজুল্লাহর মধ্যে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া সাতপাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। আফসানা আক্তারের সম্মতিতেই তাকে প্রেষণে বদলি করা হয়েছে।”

‎তিনি আরও বলেন, “আজকের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বহিরাগত লোকজনের সৃষ্টি। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।”

‎ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক বদলি নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলন এবং দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত