রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের আলোচিত মাদক কারবারি মনোয়ারুল হাসান রাসেল, যিনি ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দায়রা মামলা নং-৩০৯৫/২০২১ (কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৮ (০৯)১৯)-এ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা মামলায় পলাতক আসামি মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় কার্যকরের পরও তিনি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি। এছাড়া দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কোনো মামলা হয়নি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়া তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারুল হাসান রাসেল স্থানীয়ভাবে ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে তিনি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত।
২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাসেল ও তার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের ভাড়া বাসা থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা এলাকায় র্যাব-১২ প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি ট্রাকসহ রাসেলকে আটক করে। সে সময় জব্দ করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানানো হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, রাসেল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় ইয়াবা সরবরাহকারী ছিলেন। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় তার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় বাসের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা রাসেল পরে মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমে হেরোইন বহনের কাজ করলেও পরবর্তীতে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ইয়াবা ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অল্প কয়েক বছরের মধ্যে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন। রাজশাহী শহরে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, জমিসহ বিপুল স্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও রাসেল কীভাবে এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এছাড়া তার বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত পরিচালনা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের আলোচিত মাদক কারবারি মনোয়ারুল হাসান রাসেল, যিনি ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দায়রা মামলা নং-৩০৯৫/২০২১ (কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৮ (০৯)১৯)-এ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা মামলায় পলাতক আসামি মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের রায় কার্যকরের পরও তিনি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি। এছাড়া দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কোনো মামলা হয়নি।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়া তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারুল হাসান রাসেল স্থানীয়ভাবে ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে তিনি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত।
২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাসেল ও তার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের ভাড়া বাসা থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা এলাকায় র্যাব-১২ প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি ট্রাকসহ রাসেলকে আটক করে। সে সময় জব্দ করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানানো হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, রাসেল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় ইয়াবা সরবরাহকারী ছিলেন। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় তার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় বাসের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা রাসেল পরে মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমে হেরোইন বহনের কাজ করলেও পরবর্তীতে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ইয়াবা ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অল্প কয়েক বছরের মধ্যে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন। রাজশাহী শহরে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, জমিসহ বিপুল স্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও রাসেল কীভাবে এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এছাড়া তার বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত পরিচালনা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
