বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

অস্বীকার করলেন সাব-পোস্টমাস্টার

টুঙ্গিপাড়ায় সাব-পোস্টমাস্টারের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

টুঙ্গিপাড়ায় সাব-পোস্টমাস্টারের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা
পোস্ট অফিসের সাব-পোস্টমাস্টার ফাইজুল ইসলাম তালুকদার। ছবি : চেকপোস্ট

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী সাব-পোস্ট অফিসের সাব-পোস্টমাস্টার ফাইজুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং অফিস সময়ের আগেই চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দাবি, সাব-পোস্টমাস্টারকে নিয়মিত না পাওয়ায় রেভিনিউ স্ট্যাম্প, চিঠিপত্র আদান-প্রদান, ডাক জীবনবীমা, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা নিতে অনেককে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়া প্রধান ডাকঘরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সাব-পোস্টমাস্টার কর্মস্থলে না থাকলে অফিসের অন্য কর্মচারীরাও বিভিন্ন কাজে বাইরে চলে যান। এতে অনেক সময় পোস্ট অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকাল ১০টা, ২০ আগস্ট দুপুর ১২টা এবং ২৩ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে পাটগাতী সাব-পোস্ট অফিসে গিয়ে সাব-পোস্টমাস্টার ফাইজুল ইসলাম তালুকদারকে পাওয়া যায়নি।

২৩ আগস্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দরজা আংশিক বন্ধ ছিল। এ সময় কর্মচারী আজহার গাজী জানান, সাব-পোস্টমাস্টার ছুটিতে রয়েছেন।

পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফাইজুল ইসলাম জানান, এক আত্মীয় অসুস্থ হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য অফিসের বাইরে গেছেন। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি ফিরে আসবেন বলেও জানান।

পাটগাতী বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ বলেন, ফাইজুল ইসলাম যোগদানের পর তার সঙ্গে মাত্র একদিন দেখা হয়েছে। অনেক সেবাগ্রহীতাকে কর্মকর্তা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোহাম্মাদ বলেন, অন্য কর্মীরা সময়মতো অফিসে এলেও সাব-পোস্টমাস্টারকে সাধারণত সকাল ১০টার পর আসতে এবং বিকেল ৩টার আগেই চলে যেতে দেখা যায়।

এদিকে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তাও অভিযোগ করেন, রেভিনিউ স্ট্যাম্পসহ বিভিন্ন কাজে পাটগাতী পোস্ট অফিসে গিয়ে অনেক সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে তাদের টুঙ্গিপাড়া প্রধান ডাকঘর থেকে সেবা নিতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সাব-পোস্টমাস্টার ফাইজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তার দায়িত্ব পালনের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। যাতায়াতের ক্ষেত্রে কখনো গাড়ি না পাওয়ায় কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে তার কাছ থেকে সেবা না পেয়ে কেউ ফিরে গেছেন এমন প্রমাণ দেখাতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রেভিনিউ স্ট্যাম্প কেনার জন্য সবাইকে তার কাছ থেকেই কিনতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এ বিষয়ে ফরিদপুর ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল কার্যালয়ের পরিদর্শক (প্রশাসন) রোকন কাজী বলেন, বিষয়টি ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলকে জানানো হবে। পরবর্তীতে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাটগাতী সাব-পোস্ট অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে ডাক বিভাগের সেবাগুলো আরও কার্যকর করা হবে।

#গোপালগঞ্জ_সংবাদ #টুঙ্গিপাড়া_খবর #ডাকসেবা

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


টুঙ্গিপাড়ায় সাব-পোস্টমাস্টারের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী সাব-পোস্ট অফিসের সাব-পোস্টমাস্টার ফাইজুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং অফিস সময়ের আগেই চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দাবি, সাব-পোস্টমাস্টারকে নিয়মিত না পাওয়ায় রেভিনিউ স্ট্যাম্প, চিঠিপত্র আদান-প্রদান, ডাক জীবনবীমা, ডিপিএস ও সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা নিতে অনেককে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়া প্রধান ডাকঘরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সাব-পোস্টমাস্টার কর্মস্থলে না থাকলে অফিসের অন্য কর্মচারীরাও বিভিন্ন কাজে বাইরে চলে যান। এতে অনেক সময় পোস্ট অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকাল ১০টা, ২০ আগস্ট দুপুর ১২টা এবং ২৩ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে পাটগাতী সাব-পোস্ট অফিসে গিয়ে সাব-পোস্টমাস্টার ফাইজুল ইসলাম তালুকদারকে পাওয়া যায়নি।

২৩ আগস্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দরজা আংশিক বন্ধ ছিল। এ সময় কর্মচারী আজহার গাজী জানান, সাব-পোস্টমাস্টার ছুটিতে রয়েছেন।

পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফাইজুল ইসলাম জানান, এক আত্মীয় অসুস্থ হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য অফিসের বাইরে গেছেন। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি ফিরে আসবেন বলেও জানান।

পাটগাতী বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ বলেন, ফাইজুল ইসলাম যোগদানের পর তার সঙ্গে মাত্র একদিন দেখা হয়েছে। অনেক সেবাগ্রহীতাকে কর্মকর্তা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোহাম্মাদ বলেন, অন্য কর্মীরা সময়মতো অফিসে এলেও সাব-পোস্টমাস্টারকে সাধারণত সকাল ১০টার পর আসতে এবং বিকেল ৩টার আগেই চলে যেতে দেখা যায়।

এদিকে কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তাও অভিযোগ করেন, রেভিনিউ স্ট্যাম্পসহ বিভিন্ন কাজে পাটগাতী পোস্ট অফিসে গিয়ে অনেক সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। ফলে তাদের টুঙ্গিপাড়া প্রধান ডাকঘর থেকে সেবা নিতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সাব-পোস্টমাস্টার ফাইজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তার দায়িত্ব পালনের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। যাতায়াতের ক্ষেত্রে কখনো গাড়ি না পাওয়ায় কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে তার কাছ থেকে সেবা না পেয়ে কেউ ফিরে গেছেন এমন প্রমাণ দেখাতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রেভিনিউ স্ট্যাম্প কেনার জন্য সবাইকে তার কাছ থেকেই কিনতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এ বিষয়ে ফরিদপুর ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল কার্যালয়ের পরিদর্শক (প্রশাসন) রোকন কাজী বলেন, বিষয়টি ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলকে জানানো হবে। পরবর্তীতে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাটগাতী সাব-পোস্ট অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে ডাক বিভাগের সেবাগুলো আরও কার্যকর করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত