বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

চট্টগ্রাম সংযোগে বাড়ছে নতুন সম্ভাবনা

চীন-বাংলাদেশ করিডর কি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের হাতিয়ার?

চীন-বাংলাদেশ করিডর কি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের হাতিয়ার?
চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের প্রতীকী ছবি। এআই

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর (সিএমবিসি) ঘিরে নতুন করে সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই করিডর বাস্তবায়নের উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য শুধু অর্থনৈতিক সুযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকট সমাধানের কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমারের রাখাইন হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্ভাব্য এই করিডর বাস্তবায়িত হলে চীনসহ আসিয়ান অঞ্চলের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ সহজ হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, করিডর বাস্তবায়নে চীনের বড় ভূমিকা থাকায় বেইজিংয়ের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চাপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরাতে এই উদ্যোগ নতুন কূটনৈতিক পথ খুলে দিতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে করিডরের বিষয়টি সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং আগেই বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

সম্ভাব্য করিডরের রুট নিয়ে আলোচনা রয়েছে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় ও রাখাইন অঞ্চল হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপনের। এতে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। কারণ প্রস্তাবিত রুটের বড় অংশই সংঘাতপূর্ণ এলাকা দিয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই করিডরের সঙ্গে ভারত-চীন সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণও জড়িত।

অর্থনৈতিক দিক থেকে করিডর বাস্তবায়িত হলে চীন থেকে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমতে পারে। পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে এগোতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুই ক্ষেত্রেই এই করিডর বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

#চীনবাংলাদেশ_করিডর #রোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসন #ভূরাজনীতি_সংবাদ

চেকপোস্ট

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


চীন-বাংলাদেশ করিডর কি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের হাতিয়ার?

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর (সিএমবিসি) ঘিরে নতুন করে সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই করিডর বাস্তবায়নের উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য শুধু অর্থনৈতিক সুযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকট সমাধানের কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমারের রাখাইন হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্ভাব্য এই করিডর বাস্তবায়িত হলে চীনসহ আসিয়ান অঞ্চলের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ সহজ হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, করিডর বাস্তবায়নে চীনের বড় ভূমিকা থাকায় বেইজিংয়ের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চাপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরাতে এই উদ্যোগ নতুন কূটনৈতিক পথ খুলে দিতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে করিডরের বিষয়টি সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং আগেই বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

সম্ভাব্য করিডরের রুট নিয়ে আলোচনা রয়েছে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় ও রাখাইন অঞ্চল হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপনের। এতে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। কারণ প্রস্তাবিত রুটের বড় অংশই সংঘাতপূর্ণ এলাকা দিয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই করিডরের সঙ্গে ভারত-চীন সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণও জড়িত।

অর্থনৈতিক দিক থেকে করিডর বাস্তবায়িত হলে চীন থেকে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমতে পারে। পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে এগোতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দুই ক্ষেত্রেই এই করিডর বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত