মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, পড়ছে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাতেও। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে ২০৩০ সালেও বিশ্বের প্রায় ৫১ থেকে ৫২ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি হতে পারেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৫১০ থেকে ৫২০ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। সংঘাতের আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটি ৩০ লাখে নেমে আসার সম্ভাবনা ছিল।
এফএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার সমস্যায় ভুগেছে। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে, তবে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আফ্রিকায় ক্ষুধার সংকট সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে রয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২১০ কোটি মানুষ মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল, যা মোট বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি।
আঞ্চলিক হিসাবে আফ্রিকায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার হার সবচেয়ে বেশি ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এশিয়ায় এ হার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
জাতিসংঘ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই পূর্বাভাসে মূলত অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব বিবেচনা করা হয়েছে। তবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সম্ভাব্য চরম আবহাওয়া, এল নিনো বা বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত বৈশ্বিক পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, পড়ছে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাতেও। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে ২০৩০ সালেও বিশ্বের প্রায় ৫১ থেকে ৫২ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি হতে পারেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৫১০ থেকে ৫২০ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। সংঘাতের আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটি ৩০ লাখে নেমে আসার সম্ভাবনা ছিল।
এফএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার সমস্যায় ভুগেছে। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে, তবে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আফ্রিকায় ক্ষুধার সংকট সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে রয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২১০ কোটি মানুষ মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল, যা মোট বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি।
আঞ্চলিক হিসাবে আফ্রিকায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার হার সবচেয়ে বেশি ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এশিয়ায় এ হার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
জাতিসংঘ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই পূর্বাভাসে মূলত অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব বিবেচনা করা হয়েছে। তবে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সম্ভাব্য চরম আবহাওয়া, এল নিনো বা বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত বৈশ্বিক পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
