কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন ও শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় মিলনস্থল গড়ে তুলতে আধুনিক অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মুক্তমঞ্চের পাশে টিলার ওপর নির্মিতব্য এ স্থানে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা, সিঁড়ি, ল্যান্ডস্কেপিং ও নান্দনিক সাইনেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।
ইউজিসির বরাদ্দ ১৫ লাখ টাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসকে আরও নান্দনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে প্রায় ৮০ লাখ টাকার একটি মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে টিলার ওপরের অংশে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য ইউজিসি থেকে ১৫ লাখ টাকার বরাদ্দ ও অনুমোদন পাওয়া গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানটি শিক্ষার্থীদের আড্ডা, অবসরযাপন, দলগত ছবি তোলা, ব্যাচভিত্তিক আয়োজন এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের একত্র হওয়ার আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সাইনেজে ফুটে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়
অ্যাসেম্বলি পয়েন্টের অন্যতম আকর্ষণ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয়বাহী একটি সাইনেজ। এতে স্থান পাবে ‘Learn, Create, Connect and Lead’—এই চারটি শব্দ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশনের ভাবনা ধারণ করে শব্দগুলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন, উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেতৃত্বের বিকাশকে তুলে ধরবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নান্দনিক এই সাইনেজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়েও ভূমিকা রাখবে।
ছয়টি স্টল নিয়ে ফুড হাবের পরিকল্পনা
অ্যাসেম্বলি পয়েন্টের পাশে কলা অনুষদের নিচে ছয়টি স্টল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফুড হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর সামনে শিক্ষার্থীদের বসা, দলগত পড়াশোনা ও অবসর কাটানোর উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার এস. এম. শহিদুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে অ্যাসেম্বলি পয়েন্টের পরিসর বাড়ানো হবে। এ সময় ছয়টি স্টলসহ ফুড হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাস্টার প্ল্যানের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল রঙের বাস রাখার স্থানটিরও ল্যান্ডস্কেপিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাবান্ধব ও প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কাজ করছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, মুক্তমঞ্চের পাশের নীল বাস রাখার স্থান থেকে কলা অনুষদের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বাকি উন্নয়নকাজ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর, সৃজনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন ও শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় মিলনস্থল গড়ে তুলতে আধুনিক অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মুক্তমঞ্চের পাশে টিলার ওপর নির্মিতব্য এ স্থানে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা, সিঁড়ি, ল্যান্ডস্কেপিং ও নান্দনিক সাইনেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।
ইউজিসির বরাদ্দ ১৫ লাখ টাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসকে আরও নান্দনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে প্রায় ৮০ লাখ টাকার একটি মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে টিলার ওপরের অংশে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য ইউজিসি থেকে ১৫ লাখ টাকার বরাদ্দ ও অনুমোদন পাওয়া গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানটি শিক্ষার্থীদের আড্ডা, অবসরযাপন, দলগত ছবি তোলা, ব্যাচভিত্তিক আয়োজন এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের একত্র হওয়ার আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সাইনেজে ফুটে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়
অ্যাসেম্বলি পয়েন্টের অন্যতম আকর্ষণ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয়বাহী একটি সাইনেজ। এতে স্থান পাবে ‘Learn, Create, Connect and Lead’—এই চারটি শব্দ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশনের ভাবনা ধারণ করে শব্দগুলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন, উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেতৃত্বের বিকাশকে তুলে ধরবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নান্দনিক এই সাইনেজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়েও ভূমিকা রাখবে।
ছয়টি স্টল নিয়ে ফুড হাবের পরিকল্পনা
অ্যাসেম্বলি পয়েন্টের পাশে কলা অনুষদের নিচে ছয়টি স্টল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ফুড হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর সামনে শিক্ষার্থীদের বসা, দলগত পড়াশোনা ও অবসর কাটানোর উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার এস. এম. শহিদুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে অ্যাসেম্বলি পয়েন্টের পরিসর বাড়ানো হবে। এ সময় ছয়টি স্টলসহ ফুড হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাস্টার প্ল্যানের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল রঙের বাস রাখার স্থানটিরও ল্যান্ডস্কেপিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাবান্ধব ও প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে কাজ করছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, মুক্তমঞ্চের পাশের নীল বাস রাখার স্থান থেকে কলা অনুষদের নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান রয়েছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বাকি উন্নয়নকাজ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর, সৃজনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
