মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

কেরানীগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ, তদন্তের দাবি গ্রাহকদের

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
কেরানীগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ, তদন্তের দাবি গ্রাহকদের
ছবি: চেকপোস্ট

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ কার্যালয়ে যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘিরে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রের কারণে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখার উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেবা পেতে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেবার ধরন ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে এই অর্থের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, মোটরযানের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিটসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়ার কথা।

কিন্তু কেরানীগঞ্জ কার্যালয়ের কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, সরাসরি আবেদন করতে গেলে তাঁদের বিভিন্ন কাগজপত্রের ত্রুটি দেখানো হয় কিংবা ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে সেই জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতির কারণে অনেক গ্রাহক নিজেরা নিয়ম মেনে সেবা নেওয়ার পরিবর্তে দালালের সাহায্য নিতে বাধ্য হন। বিশেষ করে গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি খরচ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।

অভিযোগে সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর পাশাপাশি মোটরযান পরিদর্শক এস এম সবুজ, মোটরযান পরিদর্শক মনীষ কুমার চক্রবর্তী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক ও রেশমা পারভীনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়ক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধেও দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সেবাপ্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা হয়। পরে দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ ও অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী ও অভিযোগে নাম আসা অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং গ্রামের এলাকায় নামে-বেনামে সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, উৎস কিংবা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়গুলো তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিআরটিএর সদর দপ্তর থেকে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে নোটিশ দেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান পরিচালনার পরও কার্যালয়ের পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। তাঁদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, সেবাপ্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফিটনেস সনদ পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়ার পর মোটরযান পরীক্ষা করা হয়। একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষা ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার নিয়ম রয়েছে।

কিন্তু অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এসব সেবা নিতে গিয়ে অনেকে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও হয়রানির মুখে পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি সেবার নির্ধারিত নিয়ম ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

অভিযোগকারীদের মতে, সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে কার্যালয়ে গিয়ে সেবাপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দালালচক্রের কার্যক্রম, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের বক্তব্য হিসেবে দেওয়া তথ্যে দেশের ৩৫টি বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদসংক্রান্ত ঘুষ লেনদেন এবং দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে একযোগে অভিযানের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযানের পর কেরানীগঞ্জ কার্যালয়ের অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি সেবার নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সময়সীমা ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হলে দালালনির্ভরতা কমানো এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


কেরানীগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ, তদন্তের দাবি গ্রাহকদের

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২ কার্যালয়ে যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘিরে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রের কারণে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখার উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেবা পেতে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেবার ধরন ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে এই অর্থের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, মোটরযানের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিটসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়ার কথা।

কিন্তু কেরানীগঞ্জ কার্যালয়ের কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, সরাসরি আবেদন করতে গেলে তাঁদের বিভিন্ন কাগজপত্রের ত্রুটি দেখানো হয় কিংবা ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে সেই জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতির কারণে অনেক গ্রাহক নিজেরা নিয়ম মেনে সেবা নেওয়ার পরিবর্তে দালালের সাহায্য নিতে বাধ্য হন। বিশেষ করে গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি খরচ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।

অভিযোগে সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর পাশাপাশি মোটরযান পরিদর্শক এস এম সবুজ, মোটরযান পরিদর্শক মনীষ কুমার চক্রবর্তী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক ও রেশমা পারভীনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়ক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধেও দালালচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সেবাপ্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা হয়। পরে দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ ও অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী ও অভিযোগে নাম আসা অন্য কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং গ্রামের এলাকায় নামে-বেনামে সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা, উৎস কিংবা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়গুলো তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিআরটিএর সদর দপ্তর থেকে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে নোটিশ দেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান পরিচালনার পরও কার্যালয়ের পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। তাঁদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, সেবাপ্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ফিটনেস সনদ পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়ার পর মোটরযান পরীক্ষা করা হয়। একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষা ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার নিয়ম রয়েছে।

কিন্তু অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এসব সেবা নিতে গিয়ে অনেকে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও হয়রানির মুখে পড়ছেন। অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি সেবার নির্ধারিত নিয়ম ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

অভিযোগকারীদের মতে, সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে কার্যালয়ে গিয়ে সেবাপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দালালচক্রের কার্যক্রম, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের বক্তব্য হিসেবে দেওয়া তথ্যে দেশের ৩৫টি বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদসংক্রান্ত ঘুষ লেনদেন এবং দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে একযোগে অভিযানের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযানের পর কেরানীগঞ্জ কার্যালয়ের অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেরানীগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি সেবার নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সময়সীমা ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হলে দালালনির্ভরতা কমানো এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত