শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

উলিপুরের বেলেরতল-গোড়াই সড়কের বেহাল দশা

উলিপুরের বেলেরতল-গোড়াই সড়কের বেহাল দশা
ছবি: চেকপোস্ট

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৩ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলোর কারণে প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়-এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই সড়ক দিয়ে বেলেরতল, গোড়াই কল্যাণসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, ব্যবসায়ীদের বাড়ছে পরিবহন ব্যয় এবং জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়েও নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোগলবাসা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজ, নূরেশ্বর আমিনি আলিম মাদ্রাসা ও পাঁচপীর আলিম মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে। বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে বাধ্য হয়। এতে পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বই-খাতাও ভিজে যায়। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালুর কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

তবে হতাশার মাঝেও স্থানীয় তরুণরা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইট ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। এলাকাবাসীর মতে, এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি উদ্যোগই একমাত্র পথ।

এলাকাবাসীর দাবি, বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত পুরো সড়ক দ্রুত পাকাকরণ করা হোক। তাদের মতে, একটি উন্নত সড়ক শুধু সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করবে না; বরং শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

#কুড়িগ্রাম #উলিপুর #সড়ক_সংস্কার

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


উলিপুরের বেলেরতল-গোড়াই সড়কের বেহাল দশা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৩ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলোর কারণে প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়-এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এই সড়ক দিয়ে বেলেরতল, গোড়াই কল্যাণসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, ব্যবসায়ীদের বাড়ছে পরিবহন ব্যয় এবং জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়েও নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোগলবাসা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজ, নূরেশ্বর আমিনি আলিম মাদ্রাসা ও পাঁচপীর আলিম মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে। বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে বাধ্য হয়। এতে পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বই-খাতাও ভিজে যায়। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালুর কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

তবে হতাশার মাঝেও স্থানীয় তরুণরা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইট ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। এলাকাবাসীর মতে, এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি উদ্যোগই একমাত্র পথ।

এলাকাবাসীর দাবি, বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত পুরো সড়ক দ্রুত পাকাকরণ করা হোক। তাদের মতে, একটি উন্নত সড়ক শুধু সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করবে না; বরং শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত