বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া শুধু দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় নেতৃত্বই দেননি, নির্বাচনী রাজনীতিতেও গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি কখনোই কোনো আসনে পরাজিত হননি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা বিরল এক দৃষ্টান্ত।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি ভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কিংবা বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে, সব ক্ষেত্রেই ভোটারদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তিনটিতেই বিজয়ী হন। যদিও পরে দুটি আসন ছেড়ে দেন, তবু নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করে দেয়, জনসমর্থনের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের জন্য ‘আপসহীন’ নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অন্যায়, দুঃশাসন ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তাকে দল-মত নির্বিশেষে একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা এনে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে কখনো পরাজিত না হওয়ার এই রেকর্ড কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুব কমই আছে, যেখানে একজন রাজনীতিবিদ একাধিক আসনে নির্বাচন করে প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতা তাকে নির্বাচনী রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
তার মৃত্যুতে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীরই নয়, বরং নির্বাচনী রাজনীতিতে এক অনন্য অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তার প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া শুধু দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় নেতৃত্বই দেননি, নির্বাচনী রাজনীতিতেও গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি কখনোই কোনো আসনে পরাজিত হননি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা বিরল এক দৃষ্টান্ত।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি ভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কিংবা বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে, সব ক্ষেত্রেই ভোটারদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তিনটিতেই বিজয়ী হন। যদিও পরে দুটি আসন ছেড়ে দেন, তবু নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করে দেয়, জনসমর্থনের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের জন্য ‘আপসহীন’ নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অন্যায়, দুঃশাসন ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তাকে দল-মত নির্বিশেষে একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা এনে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে কখনো পরাজিত না হওয়ার এই রেকর্ড কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুব কমই আছে, যেখানে একজন রাজনীতিবিদ একাধিক আসনে নির্বাচন করে প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতা তাকে নির্বাচনী রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
তার মৃত্যুতে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীরই নয়, বরং নির্বাচনী রাজনীতিতে এক অনন্য অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
