চেক পোস্ট

মূল পাতা

রাজনীতি

গণভোট ঠেকাতে ‘না’ মিশনে নয়াদিল্লি

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
গণভোট ঠেকাতে ‘না’ মিশনে নয়াদিল্লি

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে সক্রিয় হয়েছে নয়াদিল্লি—এমন অভিযোগ উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ভারতের ডিপ স্টেট ও নীতিনির্ধারকদের মূল লক্ষ্য এখন গণভোট, বিশেষ করে যাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে সামনে আনার চেষ্টা করছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে ‘সেফ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়, যেখানে তিনি নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহতের আহ্বান জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য মারাত্মক হুমকি। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত এবং ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাতীয় পার্টির অবস্থান দুর্বল। বিএনপিকে পুরোপুরি আস্থায় নিতে না পারা এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামী দলগুলোর ভালো ফলের সম্ভাবনা দিল্লির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এ কারণেই নির্বাচন বিতর্কিত করতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তাদের ধারণা।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি ভূমিকা ছিল। শেখ হাসিনার ইংরেজি ও বাংলা—দুটি অডিও রেকর্ড করা হলেও শেষ মুহূর্তে ‘কারিগরি ত্রুটির’ অজুহাতে বাংলার আক্রমণাত্মক বক্তব্যটি প্রচার করা হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই অডিও বার্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারকে আক্রমণ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি গণভোটে ‘না’ ভোট জোরদার করতে ভারতের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলকে সক্রিয় করা হচ্ছে।

এদিকে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দিল্লিতে শেখ হাসিনার অডিও প্রচারের তীব্র সমালোচনা করে একে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সজাগ থাকা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


গণভোট ঠেকাতে ‘না’ মিশনে নয়াদিল্লি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে সক্রিয় হয়েছে নয়াদিল্লি—এমন অভিযোগ উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ভারতের ডিপ স্টেট ও নীতিনির্ধারকদের মূল লক্ষ্য এখন গণভোট, বিশেষ করে যাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে সামনে আনার চেষ্টা করছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে ‘সেফ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়, যেখানে তিনি নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহতের আহ্বান জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য মারাত্মক হুমকি। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত এবং ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাতীয় পার্টির অবস্থান দুর্বল। বিএনপিকে পুরোপুরি আস্থায় নিতে না পারা এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামী দলগুলোর ভালো ফলের সম্ভাবনা দিল্লির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এ কারণেই নির্বাচন বিতর্কিত করতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তাদের ধারণা।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি ভূমিকা ছিল। শেখ হাসিনার ইংরেজি ও বাংলা—দুটি অডিও রেকর্ড করা হলেও শেষ মুহূর্তে ‘কারিগরি ত্রুটির’ অজুহাতে বাংলার আক্রমণাত্মক বক্তব্যটি প্রচার করা হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই অডিও বার্তায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারকে আক্রমণ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি গণভোটে ‘না’ ভোট জোরদার করতে ভারতের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলকে সক্রিয় করা হচ্ছে।

এদিকে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দিল্লিতে শেখ হাসিনার অডিও প্রচারের তীব্র সমালোচনা করে একে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সজাগ থাকা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।


চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত