কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়, কক্সবাজার কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য ফরিদুল আলম অভিযোগ করেন যে, দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ২২ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। অনুদানের বিপরীতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের স্বাক্ষরযুক্ত বৈধ রশিদ ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন থাকলেও উক্ত অর্থ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
তদন্তে আরও দেখা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো সংরক্ষিত হিসাব পাওয়া যায়নি। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কাইচার লিটন লিখিতভাবে জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষকের সময়কালের আর্থিক নথিপত্র বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত নেই।
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ এবং সহকারী শিক্ষক (বাংলা) তোয়াহার উদ্দিন উপস্থিত না থাকলেও পরবর্তীতে ডাকযোগে প্রাপ্ত কাগজপত্র যাচাই করে বেতন বিলি সংক্রান্ত গুরুতর অসংগতি পাওয়া যায়।
এ সময় তোয়াহার উদ্দিনের চাকরিতে যোগদানের সময় প্রদত্ত এনটিআরসিএ সনদ যাচাই করে তা জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় তাঁর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করা হয় এবং পরবর্তীতে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান বর্তমান প্রধান শিক্ষক।
তদন্তে আরও জানা যায়, জাল সনদ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত তোয়াহার উদ্দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকায় ভুয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা লিখিতভাবে জানান, বেতন উত্তোলনের ক্ষেত্রে তাদের স্বাক্ষর সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ কর্তৃক জাল করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাপ্ত প্রামাণ্য কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়, কক্সবাজার কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য ফরিদুল আলম অভিযোগ করেন যে, দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ২২ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। অনুদানের বিপরীতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের স্বাক্ষরযুক্ত বৈধ রশিদ ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন থাকলেও উক্ত অর্থ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
তদন্তে আরও দেখা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো সংরক্ষিত হিসাব পাওয়া যায়নি। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কাইচার লিটন লিখিতভাবে জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষকের সময়কালের আর্থিক নথিপত্র বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত নেই।
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ এবং সহকারী শিক্ষক (বাংলা) তোয়াহার উদ্দিন উপস্থিত না থাকলেও পরবর্তীতে ডাকযোগে প্রাপ্ত কাগজপত্র যাচাই করে বেতন বিলি সংক্রান্ত গুরুতর অসংগতি পাওয়া যায়।
এ সময় তোয়াহার উদ্দিনের চাকরিতে যোগদানের সময় প্রদত্ত এনটিআরসিএ সনদ যাচাই করে তা জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় তাঁর এমপিও ইনডেক্স কর্তন করা হয় এবং পরবর্তীতে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান বর্তমান প্রধান শিক্ষক।
তদন্তে আরও জানা যায়, জাল সনদ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত তোয়াহার উদ্দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকায় ভুয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা লিখিতভাবে জানান, বেতন উত্তোলনের ক্ষেত্রে তাদের স্বাক্ষর সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ কর্তৃক জাল করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাপ্ত প্রামাণ্য কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
