রাষ্ট্র পরিচালনায় একক দলের কর্তৃত্ব নয়, বরং নীতিনিষ্ঠ ও সম্মিলিত নেতৃত্বই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ঐক্যের সরকার ছাড়া টেকসই বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি নীতিভিত্তিক রাজনীতির আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পত্তি নয়। এই দেশ গড়তে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক কাতারে আনতে হবে।” তিনি দাবি করেন, অতীতের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি দেশকে বিভক্ত করেছে এবং সেই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এখনই।
তিনি জানান, সরকার পরিচালনায় জামায়াত কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জামায়াতের তিনটি মৌলিক শর্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান থাকতে হবে; ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রক্ষা করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখতে হবে, যাতে পরিচয় বা প্রভাব নয়-আইনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।
তৃতীয়ত, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের সর্বত্র যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে—অঞ্চল, দল কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক তা দূর করতে হলে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশনীতির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কোনো দেশের প্রভুত্ব নয়।” তিনি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি, আলেম সমাজ ও দক্ষ নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে যারা মানুষের অধিকার বোঝে, দেশের স্বার্থে দৃঢ় থাকে এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কখনো আপস করে না।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
রাষ্ট্র পরিচালনায় একক দলের কর্তৃত্ব নয়, বরং নীতিনিষ্ঠ ও সম্মিলিত নেতৃত্বই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ঐক্যের সরকার ছাড়া টেকসই বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি নীতিভিত্তিক রাজনীতির আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পত্তি নয়। এই দেশ গড়তে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক কাতারে আনতে হবে।” তিনি দাবি করেন, অতীতের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি দেশকে বিভক্ত করেছে এবং সেই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এখনই।
তিনি জানান, সরকার পরিচালনায় জামায়াত কোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জামায়াতের তিনটি মৌলিক শর্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান থাকতে হবে; ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রক্ষা করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখতে হবে, যাতে পরিচয় বা প্রভাব নয়-আইনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।
তৃতীয়ত, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের সর্বত্র যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে—অঞ্চল, দল কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক তা দূর করতে হলে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশনীতির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কোনো দেশের প্রভুত্ব নয়।” তিনি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি, আলেম সমাজ ও দক্ষ নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে যারা মানুষের অধিকার বোঝে, দেশের স্বার্থে দৃঢ় থাকে এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কখনো আপস করে না।
