খুলনার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)-এর আদলে একটি আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন রকিবুল ইসলাম বকুল। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল নির্বাচিত হওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খুলনার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
বকুল বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়ন ছাড়া এই সমস্যার কোনো বিকল্প নেই। খুলনার সোনালি অতীত ছিল এখানকার কলকারখানাগুলো। অচলাবস্থা কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলসহ সব কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সেগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান এবং মোংলা বন্দর-এর বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে বড় পরিসরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনা সম্ভব। ইপিজেডের আদলে শিল্পনগরী গড়ে তোলা গেলে বিনিয়োগকারীরা খুলনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে এবং নগর জীবনে ফিরবে কর্মচাঞ্চল্য।
রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “অবহেলিত এই শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় কর্মচঞ্চল করে তোলা এবং স্থানীয় যুবসমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার মূল লক্ষ্য। একটি আধুনিক ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে খুলনার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে।”
রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুলনা-৩-এর সবাই আমার দায়িত্ব। আমি নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম—নির্বাচিত হলে সব দলের, সব মত ও সব ধর্মের মানুষের এমপি হবো।” তিনি জানান, রাজনৈতিক সৌন্দর্য ও সহনশীলতা তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর কাছ থেকেই শিখেছেন এবং তার আদর্শ অনুসরণ করেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন।
নিজ দলের কোনো নেতা-কর্মী অপকর্মে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বকুল বলেন, “বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করে জনকল্যাণমূলক এলাকা গড়ে তুলতে চাই। ভিন্নমতাবলম্বীদের গঠনমূলক প্রস্তাব ও সমালোচনা গ্রহণ করে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করব।”
এছাড়া তিনি দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের চেষ্টা, একটি বিশেষায়িত আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন, খুলনাকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা এবং তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানে কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রকিবুল ইসলাম বকুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকের মাহফুজুর রহমান পান ৬৬ হাজার ১০ ভোট। ৮ হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)-এর আদলে একটি আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন রকিবুল ইসলাম বকুল। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল নির্বাচিত হওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খুলনার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
বকুল বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়ন ছাড়া এই সমস্যার কোনো বিকল্প নেই। খুলনার সোনালি অতীত ছিল এখানকার কলকারখানাগুলো। অচলাবস্থা কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলসহ সব কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সেগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান এবং মোংলা বন্দর-এর বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে বড় পরিসরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনা সম্ভব। ইপিজেডের আদলে শিল্পনগরী গড়ে তোলা গেলে বিনিয়োগকারীরা খুলনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন, যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে এবং নগর জীবনে ফিরবে কর্মচাঞ্চল্য।
রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “অবহেলিত এই শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় কর্মচঞ্চল করে তোলা এবং স্থানীয় যুবসমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার মূল লক্ষ্য। একটি আধুনিক ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে খুলনার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে।”
রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুলনা-৩-এর সবাই আমার দায়িত্ব। আমি নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম—নির্বাচিত হলে সব দলের, সব মত ও সব ধর্মের মানুষের এমপি হবো।” তিনি জানান, রাজনৈতিক সৌন্দর্য ও সহনশীলতা তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর কাছ থেকেই শিখেছেন এবং তার আদর্শ অনুসরণ করেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন।
নিজ দলের কোনো নেতা-কর্মী অপকর্মে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বকুল বলেন, “বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করে জনকল্যাণমূলক এলাকা গড়ে তুলতে চাই। ভিন্নমতাবলম্বীদের গঠনমূলক প্রস্তাব ও সমালোচনা গ্রহণ করে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করব।”
এছাড়া তিনি দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের চেষ্টা, একটি বিশেষায়িত আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন, খুলনাকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা এবং তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানে কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রকিবুল ইসলাম বকুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকের মাহফুজুর রহমান পান ৬৬ হাজার ১০ ভোট। ৮ হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
