রোববার, ২১ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

খেলা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

৩৩ ম্যাচে ১০০ গোল, ২০২৬ বিশ্বকাপ কি ইতিহাসের ‘গোলবন্যা’ আসর?

৩৩ ম্যাচে ১০০ গোল, ২০২৬ বিশ্বকাপ কি ইতিহাসের ‘গোলবন্যা’ আসর?
গাকপোর গোলে পূরণ হয় সেই মাইলফলক। ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপ যেন সত্যিই পরিণত হয়েছে এক গোলের উৎসবে। মাত্র ৩৩ ম্যাচেই টুর্নামেন্টের গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ১০০-তে, যা গত কয়েক দশকের বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম রেকর্ডগুলোর একটি।

সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারানোর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপোর গোলের মাধ্যমে এই মাইলফলক স্পর্শ করে আসরটি। পরিসংখ্যান বলছে, ৬৮ বছরের মধ্যে এত দ্রুত তিন অঙ্কে পৌঁছায়নি বিশ্বকাপের গোল সংখ্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের আসরে গড়ে প্রতি ম্যাচে ৩-এর বেশি গোল হচ্ছে, যা টুর্নামেন্টকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক করে তুলেছে। এই গতি অব্যাহত থাকলে ১০৪ ম্যাচের আসরে গোল ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গোলবন্যার পেছনে একাধিক কারণ উঠে আসছে। প্রথমত, নতুন অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’ নিয়ে চলছে আলোচনা। এর নকশা ও গতি গোলরক্ষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মত অনেক সাবেক গোলরক্ষকের।

দ্বিতীয়ত, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। ফলে শক্তির ব্যবধান কিছু ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরিণত হচ্ছে, যদিও কিছু ম্যাচে চমকও দেখা যাচ্ছে।

তৃতীয় কারণ হিসেবে উত্তর আমেরিকার গরম, দীর্ঘ ভ্রমণ ও ক্লান্তিকে দায়ী করা হচ্ছে, যা ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণভাগের ভুল বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চতুর্থত, হাইড্রেশন ব্রেকের মাধ্যমে কোচরা অতিরিক্ত কৌশলগত নির্দেশনা দিতে পারছেন, যা ম্যাচের ছন্দ বদলে দিচ্ছে।

পঞ্চম ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তারকা ফুটবলারদের দারুণ ফর্ম। মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ড ও কেইনের মতো বড় নামগুলো শুরু থেকেই গোল পাচ্ছেন, যা ম্যাচগুলোকে আরও উন্মুক্ত করে তুলছে।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুধু আক্রমণনির্ভর নয়, বরং দ্রুতগতির ও গোলসমৃদ্ধ এক ভিন্ন ধাঁচের আসরে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই গোলের গতি শেষ পর্যন্ত কতদূর যায়।

#বিশ্বকাপ২০২৬ #গোলবন্যা #ফুটবল_রেকর্ড

চেকপোস্ট

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


৩৩ ম্যাচে ১০০ গোল, ২০২৬ বিশ্বকাপ কি ইতিহাসের ‘গোলবন্যা’ আসর?

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

২০২৬ বিশ্বকাপ যেন সত্যিই পরিণত হয়েছে এক গোলের উৎসবে। মাত্র ৩৩ ম্যাচেই টুর্নামেন্টের গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ১০০-তে, যা গত কয়েক দশকের বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম রেকর্ডগুলোর একটি।

সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারানোর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কোডি গাকপোর গোলের মাধ্যমে এই মাইলফলক স্পর্শ করে আসরটি। পরিসংখ্যান বলছে, ৬৮ বছরের মধ্যে এত দ্রুত তিন অঙ্কে পৌঁছায়নি বিশ্বকাপের গোল সংখ্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের আসরে গড়ে প্রতি ম্যাচে ৩-এর বেশি গোল হচ্ছে, যা টুর্নামেন্টকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক করে তুলেছে। এই গতি অব্যাহত থাকলে ১০৪ ম্যাচের আসরে গোল ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গোলবন্যার পেছনে একাধিক কারণ উঠে আসছে। প্রথমত, নতুন অফিসিয়াল বল ‘ট্রিওন্ডা’ নিয়ে চলছে আলোচনা। এর নকশা ও গতি গোলরক্ষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মত অনেক সাবেক গোলরক্ষকের।

দ্বিতীয়ত, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। ফলে শক্তির ব্যবধান কিছু ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরিণত হচ্ছে, যদিও কিছু ম্যাচে চমকও দেখা যাচ্ছে।

তৃতীয় কারণ হিসেবে উত্তর আমেরিকার গরম, দীর্ঘ ভ্রমণ ও ক্লান্তিকে দায়ী করা হচ্ছে, যা ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণভাগের ভুল বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চতুর্থত, হাইড্রেশন ব্রেকের মাধ্যমে কোচরা অতিরিক্ত কৌশলগত নির্দেশনা দিতে পারছেন, যা ম্যাচের ছন্দ বদলে দিচ্ছে।

পঞ্চম ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তারকা ফুটবলারদের দারুণ ফর্ম। মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ড ও কেইনের মতো বড় নামগুলো শুরু থেকেই গোল পাচ্ছেন, যা ম্যাচগুলোকে আরও উন্মুক্ত করে তুলছে।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুধু আক্রমণনির্ভর নয়, বরং দ্রুতগতির ও গোলসমৃদ্ধ এক ভিন্ন ধাঁচের আসরে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই গোলের গতি শেষ পর্যন্ত কতদূর যায়।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত