বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

দুর্ভোগে নাগরিকরা

২৫ বছরেও ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা ভাড়া ভবনে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম

২৫ বছরেও ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা ভাড়া ভবনে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম
ছবি : চেকপোস্ট

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২৫ বছর পার হলেও এখনও নিজস্ব ভবন পায়নি রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং বরাদ্দের অর্থ তছরুপের অভিযোগে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের কাজ থমকে রয়েছে। ফলে একটি ভাড়া করা সংকীর্ণ ভবনেই চলছে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম, আর এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে পুঠিয়া পৌরসভা গঠনের পর সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে প্রথম এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এরও আগে, ২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় সেই প্রকল্প আর বাস্তবায়ন হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারীর দাবি, বিগত দুই মেয়রের সময়ে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ তছরুপ হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার তহবিলে রয়েছে মাত্র ১৬ লাখ টাকা, যা একটি পূর্ণাঙ্গ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

পৌরসভার ৮ নম্বর কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, ২৫ বছরেও পৌর ভবন নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর অভিযোগ, সাবেক মেয়রদের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণেই আজও ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

'স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯' এবং 'ইমারত নির্মাণ বিধিমালা' অনুযায়ী পৌর ভবনের জন্য সরকারি খাস, অধিগ্রহণযোগ্য অথবা পৌরসভার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, পুঠিয়া পৌর সদরে সরকারি খাস জমি রয়েছে, যা অধিগ্রহণ করলে ভবন নির্মাণের পথ সহজ হবে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, আদর্শ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি পৌর সদরের ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় পৌর ভবন নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

#রাজশাহী #বাংলাদেশ_স্থানীয়_সরকার #পুঠিয়া_পৌরসভা

চেকপোস্ট

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


২৫ বছরেও ভবন পায়নি পুঠিয়া পৌরসভা ভাড়া ভবনে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২৫ বছর পার হলেও এখনও নিজস্ব ভবন পায়নি রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং বরাদ্দের অর্থ তছরুপের অভিযোগে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের কাজ থমকে রয়েছে। ফলে একটি ভাড়া করা সংকীর্ণ ভবনেই চলছে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম, আর এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে পুঠিয়া পৌরসভা গঠনের পর সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০১৬ সালে প্রথম এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এরও আগে, ২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় সেই প্রকল্প আর বাস্তবায়ন হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারীর দাবি, বিগত দুই মেয়রের সময়ে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ তছরুপ হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার তহবিলে রয়েছে মাত্র ১৬ লাখ টাকা, যা একটি পূর্ণাঙ্গ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

পৌরসভার ৮ নম্বর কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, ২৫ বছরেও পৌর ভবন নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর অভিযোগ, সাবেক মেয়রদের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণেই আজও ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

'স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯' এবং 'ইমারত নির্মাণ বিধিমালা' অনুযায়ী পৌর ভবনের জন্য সরকারি খাস, অধিগ্রহণযোগ্য অথবা পৌরসভার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমি প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, পুঠিয়া পৌর সদরে সরকারি খাস জমি রয়েছে, যা অধিগ্রহণ করলে ভবন নির্মাণের পথ সহজ হবে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, আদর্শ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি পৌর সদরের ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গায় পৌর ভবন নির্মাণের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত