খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বারোআড়িয়া-ডুমুরিয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও কাদামাটির কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তন হলেও এই সড়কের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খোঁজ নেন না।
বারোআড়িয়া বাজার থেকে ডুমুরিয়া হয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। বর্তমানে বারোআড়িয়া বাজার থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এবং বারোআড়িয়া ওয়াপদা সড়ক থেকে সুন্দরমহল, জালিয়াখালী ও চাঁদগড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
সড়কের দুরবস্থার কারণে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ ছোট-বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থী, রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্করা।
স্থানীয় ভ্যানচালক আসলাম উদ্দিন বলেন, “রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। দুইজনের বেশি যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালানো যায় না। আমরা নিজেরাই কিছু জায়গায় ইটের খোয়া দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।”
বারোআড়িয়া-সুন্দরমহল ভ্যান সমিতির সভাপতি তাহের শেখ অভিযোগ করেন, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পায়ে হেঁটেও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, বর্তমানে রাস্তা সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। নতুন বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল জানান, সড়কটি সড়ক বিভাগের আওতাভুক্ত হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সরাসরি কাজ করতে পারছে না। তিনি বলেন, বারোআড়িয়া বাজার থেকে সুন্দরমহল সড়কটি কেডিআরআইডিবি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি এগোয়নি।
তিনি আরও জানান, এনওসি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন প্রকল্পে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বারোআড়িয়া-ডুমুরিয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও কাদামাটির কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তন হলেও এই সড়কের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খোঁজ নেন না।
বারোআড়িয়া বাজার থেকে ডুমুরিয়া হয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। বর্তমানে বারোআড়িয়া বাজার থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এবং বারোআড়িয়া ওয়াপদা সড়ক থেকে সুন্দরমহল, জালিয়াখালী ও চাঁদগড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
সড়কের দুরবস্থার কারণে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ ছোট-বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থী, রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্করা।
স্থানীয় ভ্যানচালক আসলাম উদ্দিন বলেন, “রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। দুইজনের বেশি যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালানো যায় না। আমরা নিজেরাই কিছু জায়গায় ইটের খোয়া দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।”
বারোআড়িয়া-সুন্দরমহল ভ্যান সমিতির সভাপতি তাহের শেখ অভিযোগ করেন, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পায়ে হেঁটেও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, বর্তমানে রাস্তা সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। নতুন বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল জানান, সড়কটি সড়ক বিভাগের আওতাভুক্ত হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সরাসরি কাজ করতে পারছে না। তিনি বলেন, বারোআড়িয়া বাজার থেকে সুন্দরমহল সড়কটি কেডিআরআইডিবি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি এগোয়নি।
তিনি আরও জানান, এনওসি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন প্রকল্পে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
