নীলফামারীর সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাজা (১৮) নামে এক তরুণ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার দুই উরুতে গভীর জখম ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে শহরের মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিস্ত্রিপাড়া শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে নবীনগর এলাকার একটি গ্রুপের বিরোধ শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠকের কথা থাকলেও তার আগেই দুপুরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজা মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে গেলে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রাজাকে কুপিয়ে আহত করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নবীনগর এলাকার একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানান।
অন্যদিকে, এ সময় শাখাওয়াত তালাও এলাকার একটি দল নবীনগর এলাকায় গিয়ে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার পর এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বের হননি।
নবীনগর এলাকার বাসিন্দা গুলশান আরা অভিযোগ করেন, শাখাওয়াত তালাও এলাকার কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে তাদের এলাকায় হামলা চালিয়ে তার বাড়িতেও ঢোকার চেষ্টা করে এবং তাকে মারধর করে।
তিনি বলেন, দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে তার পরিবারের কেউ জড়িত নন। নিরীহ মানুষের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
মিস্ত্রিপাড়া মোড় এলাকার ইমরান বলেন, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় তানভির নামে এক শিশুকে মারধরের প্রতিবাদ করায় তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, হামলাকারীরা অস্ত্র দিয়ে দরজা-জানালায় আঘাত করে এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে।
নবীনগরের বাসিন্দা নিপু বলেন, অস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জনের মহড়া ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় এলাকাবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নিরীহ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিক আজিজ বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে শনিবার সকালে শাখাওয়াত তালাও এলাকার সাদ্দামকে সাহেবপাড়া আমিন মোড়ের তার দর্জির দোকান থেকে বের করে নবীনগর এলাকার কয়েকজন মারধর করে বলে তিনি জানান। এর জেরেই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তার ধারণা।
তিনি জানান, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সার্বিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাজা (১৮) নামে এক তরুণ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার দুই উরুতে গভীর জখম ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে শহরের মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিস্ত্রিপাড়া শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে নবীনগর এলাকার একটি গ্রুপের বিরোধ শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠকের কথা থাকলেও তার আগেই দুপুরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজা মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে গেলে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রাজাকে কুপিয়ে আহত করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নবীনগর এলাকার একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানান।
অন্যদিকে, এ সময় শাখাওয়াত তালাও এলাকার একটি দল নবীনগর এলাকায় গিয়ে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার পর এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বের হননি।
নবীনগর এলাকার বাসিন্দা গুলশান আরা অভিযোগ করেন, শাখাওয়াত তালাও এলাকার কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে তাদের এলাকায় হামলা চালিয়ে তার বাড়িতেও ঢোকার চেষ্টা করে এবং তাকে মারধর করে।
তিনি বলেন, দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে তার পরিবারের কেউ জড়িত নন। নিরীহ মানুষের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
মিস্ত্রিপাড়া মোড় এলাকার ইমরান বলেন, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় তানভির নামে এক শিশুকে মারধরের প্রতিবাদ করায় তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, হামলাকারীরা অস্ত্র দিয়ে দরজা-জানালায় আঘাত করে এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে।
নবীনগরের বাসিন্দা নিপু বলেন, অস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জনের মহড়া ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় এলাকাবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নিরীহ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।
সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিক আজিজ বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে শনিবার সকালে শাখাওয়াত তালাও এলাকার সাদ্দামকে সাহেবপাড়া আমিন মোড়ের তার দর্জির দোকান থেকে বের করে নবীনগর এলাকার কয়েকজন মারধর করে বলে তিনি জানান। এর জেরেই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তার ধারণা।
তিনি জানান, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সার্বিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
