নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনভর সৈয়দপুরের শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে তদন্তের পদ্ধতি ও সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এতে তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার এবং সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত করা হয়।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ৬ আগস্ট নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ। সদস্য হিসেবে ছিলেন ডোমার উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফজালুল হক এবং নীলফামারী সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস।
তদন্তকালে কমিটি অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তদন্তের সময় অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, যা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী স্কুলের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম পাটোয়ারী এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরনবী সরকারের বক্তব্য নেওয়া হয়। অন্যদিকে এটিইও মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতারের বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়।
তবে কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা তথ্য জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে এটিইও মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নামে ৫ হাজার টাকা নেওয়া, স্লিপের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ।
অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষকের আচরণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে প্রায় এক বছর আগে স্কুলের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম পাটোয়ারী একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ করেন। তিনি উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
পরে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের নিয়ে মানববন্ধনও করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৪১ জনের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ পাঠানো হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এর আগেও তদন্ত কমিটি গঠন হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এবারও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও তদন্তের কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনভর সৈয়দপুরের শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে তদন্তের পদ্ধতি ও সংবাদকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এতে তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার এবং সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত করা হয়।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ৬ আগস্ট নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ। সদস্য হিসেবে ছিলেন ডোমার উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফজালুল হক এবং নীলফামারী সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস।
তদন্তকালে কমিটি অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তদন্তের সময় অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, যা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী স্কুলের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম পাটোয়ারী এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরনবী সরকারের বক্তব্য নেওয়া হয়। অন্যদিকে এটিইও মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতারের বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়।
তবে কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থীর বক্তব্য নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংবাদকর্মীরা তথ্য জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে এটিইও মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নামে ৫ হাজার টাকা নেওয়া, স্লিপের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ।
অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষকের আচরণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে প্রায় এক বছর আগে স্কুলের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম পাটোয়ারী একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ করেন। তিনি উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
পরে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের নিয়ে মানববন্ধনও করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৪১ জনের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ পাঠানো হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এর আগেও তদন্ত কমিটি গঠন হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এবারও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও তদন্তের কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
