মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

রাজনীতি

দুই দলই এককভাবে নির্বাচনে যেতে চায়

সিটি ভোটে আলাদা পথে জামায়াত-এনসিপি, শেষ মুহূর্তে সমঝোতার ইঙ্গিত

সিটি ভোটে আলাদা পথে জামায়াত-এনসিপি, শেষ মুহূর্তে সমঝোতার ইঙ্গিত
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ থাকলেও এবার আলাদা পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না দুই দলের শীর্ষ নেতারা।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলের মধ্যে জোট গঠিত হলেও সিটি নির্বাচনে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে দুই দলই নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম-কে প্রার্থী করার আলোচনা চলছে। অন্যদিকে এনসিপি ইতোমধ্যে তাদের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর নাম ঘোষণা করেছে।

এনসিপি সূত্র জানায়, তারা ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সাদিক কায়েমও জানিয়েছেন, দক্ষিণ ঢাকার মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন।

দুই দলের নেতারা বলছেন, আপাতত এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ মুহূর্তে বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতা হতে পারে। এনসিপির দফতর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, “এখনো জোটগত নির্বাচনের কোনো আলোচনা নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম। তিনি বলেন, “আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে প্রয়োজনে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে সাদিক কায়েমের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ অন্য কোনো দলের প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে আসন্ন সম্মেলনের পর তার আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং কেন্দ্র থেকেই মেয়র প্রার্থীদের ঘোষণা দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, সিটি নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না সমঝোতা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

#বাংলাদেশ_রাজনীতি #সিটি_নির্বাচন #ঢাকা_দক্ষিণ

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


সিটি ভোটে আলাদা পথে জামায়াত-এনসিপি, শেষ মুহূর্তে সমঝোতার ইঙ্গিত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ থাকলেও এবার আলাদা পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না দুই দলের শীর্ষ নেতারা।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলের মধ্যে জোট গঠিত হলেও সিটি নির্বাচনে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে দুই দলই নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম-কে প্রার্থী করার আলোচনা চলছে। অন্যদিকে এনসিপি ইতোমধ্যে তাদের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর নাম ঘোষণা করেছে।

এনসিপি সূত্র জানায়, তারা ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সাদিক কায়েমও জানিয়েছেন, দক্ষিণ ঢাকার মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন।

দুই দলের নেতারা বলছেন, আপাতত এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ মুহূর্তে বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতা হতে পারে। এনসিপির দফতর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, “এখনো জোটগত নির্বাচনের কোনো আলোচনা নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম। তিনি বলেন, “আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে প্রয়োজনে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে সাদিক কায়েমের সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ অন্য কোনো দলের প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে আসন্ন সম্মেলনের পর তার আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং কেন্দ্র থেকেই মেয়র প্রার্থীদের ঘোষণা দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, সিটি নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না সমঝোতা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত