সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

টু‌জিয়া সম্প্রদায়ের ব্যতিক্রমী বিয়ের ঐতিহ্য

বিয়ের আগে এক মাস ধরে কাঁদতে হয় কনেকে!

বিয়ের আগে এক মাস ধরে কাঁদতে হয় কনেকে!
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিয়ের আয়োজন মানেই আনন্দ, উৎসব আর উদযাপন। তবে চীন-এর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের টু‌জিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে এক ব্যতিক্রমী রীতি, যেখানে বিয়ের আগে কনেকে নিয়মিত কাঁদতে হয়। এই প্রথাটি ‘ক্রাইং ম্যারেজ’ নামে পরিচিত।

ঐতিহাসিকভাবে এই রীতির প্রচলন কিং রাজবংশ-এর শেষ সময় (১৬৪৪–১৯১১) থেকে। যদিও আধুনিক শহুরে জীবনে এর চর্চা কমে গেছে, তবুও গ্রামীণ ও পাহাড়ি অঞ্চলে এখনো এটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অংশ হিসেবে টিকে আছে।

এই প্রথায় কনে বিয়ের এক মাস আগে থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে কাঁদে বা কান্নার গান গায়। এটি শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী সংগীতধর্মী পরিবেশনা, যেখানে কনে তার জীবনের আবেগ, পরিবারপ্রেম, কৃতজ্ঞতা এবং নতুন জীবনের প্রত্যাশা প্রকাশ করে।

প্রথা অনুযায়ী, বিয়ের এক মাস আগে কনে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কাঁদে। কয়েকদিন পর তার মা, পরে দাদি-নানি ও অন্যান্য নারীরাও এতে যোগ দেন। এই আয়োজনকে ‘জুও তাং’ বলা হয়।

কিছু এলাকায় ‘টেন সিস্টার গ্যাদারিং’ নামে কনের বন্ধু ও আত্মীয়রা একত্র হয়ে কান্না ও গান করেন, যা সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

প্রাচীন সমাজে মেয়েদের বিয়ে অনেক সময় তাদের মতামত ছাড়া নির্ধারিত হতো। তাই এই কান্না ছিল কনের নিজের আবেগ, অসন্তোষ ও প্রত্যাশা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম।

এছাড়া এটি পরিবার ও সমাজের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং নতুন জীবনের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এই প্রথা শুধু একটি রীতি নয়, বরং কনের সামাজিক মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন। অতীতে যথেষ্ট কান্না না করলে কনেকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হতো।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এটি কনের আবেগ প্রকাশ ও মানসিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সময়েও চীনের কিছু গ্রামীণ অঞ্চলে এই প্রথা টিকে আছে, যা পরিবার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

#অদ্ভুতপ্রথা #চীন #বিয়েররীতি

চেকপোস্ট

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


বিয়ের আগে এক মাস ধরে কাঁদতে হয় কনেকে!

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিয়ের আয়োজন মানেই আনন্দ, উৎসব আর উদযাপন। তবে চীন-এর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের টু‌জিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে এক ব্যতিক্রমী রীতি, যেখানে বিয়ের আগে কনেকে নিয়মিত কাঁদতে হয়। এই প্রথাটি ‘ক্রাইং ম্যারেজ’ নামে পরিচিত।

ঐতিহাসিকভাবে এই রীতির প্রচলন কিং রাজবংশ-এর শেষ সময় (১৬৪৪–১৯১১) থেকে। যদিও আধুনিক শহুরে জীবনে এর চর্চা কমে গেছে, তবুও গ্রামীণ ও পাহাড়ি অঞ্চলে এখনো এটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অংশ হিসেবে টিকে আছে।

এই প্রথায় কনে বিয়ের এক মাস আগে থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে কাঁদে বা কান্নার গান গায়। এটি শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী সংগীতধর্মী পরিবেশনা, যেখানে কনে তার জীবনের আবেগ, পরিবারপ্রেম, কৃতজ্ঞতা এবং নতুন জীবনের প্রত্যাশা প্রকাশ করে।

প্রথা অনুযায়ী, বিয়ের এক মাস আগে কনে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কাঁদে। কয়েকদিন পর তার মা, পরে দাদি-নানি ও অন্যান্য নারীরাও এতে যোগ দেন। এই আয়োজনকে ‘জুও তাং’ বলা হয়।

কিছু এলাকায় ‘টেন সিস্টার গ্যাদারিং’ নামে কনের বন্ধু ও আত্মীয়রা একত্র হয়ে কান্না ও গান করেন, যা সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

প্রাচীন সমাজে মেয়েদের বিয়ে অনেক সময় তাদের মতামত ছাড়া নির্ধারিত হতো। তাই এই কান্না ছিল কনের নিজের আবেগ, অসন্তোষ ও প্রত্যাশা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম।

এছাড়া এটি পরিবার ও সমাজের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং নতুন জীবনের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এই প্রথা শুধু একটি রীতি নয়, বরং কনের সামাজিক মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন। অতীতে যথেষ্ট কান্না না করলে কনেকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হতো।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এটি কনের আবেগ প্রকাশ ও মানসিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সময়েও চীনের কিছু গ্রামীণ অঞ্চলে এই প্রথা টিকে আছে, যা পরিবার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত