বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

ব্যায়ামেও মিলবে উপকার

ফ্যাটি লিভারে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

ফ্যাটি লিভারে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
ছবি : এ্যপোলো ২৪৭

ফ্যাটি লিভার বর্তমানে পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার পেছনে অতিরিক্ত ওজন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন প্রতিরোধ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং অ্যালকোহল গ্রহণসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অ্যালকোহল ছাড়া বিপাকীয় কারণে হওয়া ফ্যাটি লিভারকে বর্তমানে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বলা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে লিভারে জমে থাকা চর্বি কমানো এবং রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার কেন হয়?

লিভারে অল্প পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

অ্যালকোহল অতিরিক্ত গ্রহণের কারণে এক ধরনের ফ্যাটি লিভার হতে পারে। আবার অ্যালকোহল পান না করলেও স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে লিভারে চর্বি জমার বিষয়টি ধরা পড়তে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ওজন কমানো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। শরীরের মোট ওজনের অন্তত ৫ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারের চর্বি কমতে পারে। আরও বেশি, প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমাতে পারলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারের প্রদাহসহ রোগের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যেরও উন্নতি হতে পারে।

তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ধীরে ও নিয়ম মেনে ওজন কমানো ভালো। খুব কম ক্যালরির খাবার বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার মতো কঠোর পদ্ধতি অনুসরণ না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

অতিরিক্ত চিনি কমান

ফ্যাটি লিভার থাকলে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস কমানো জরুরি। বিশেষ করে কোমল পানীয়, চিনি দেওয়া চা-কফি, প্যাকেটজাত মিষ্টি পানীয়, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনি থাকা খাবার যতটা সম্ভব সীমিত করা উচিত।

বিশেষ করে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ ও চিনি থাকা পানীয় নিয়মিত গ্রহণ না করাই ভালো।

তবে ফলের প্রাকৃতিক চিনি এবং কোমল পানীয় বা মিষ্টিতে যোগ করা চিনি এক বিষয় নয়। তাই ফ্যাটি লিভার হয়েছে বলে সব ফল বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমান

স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকা খাবার নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস, ভাজাপোড়া এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবারে এ ধরনের চর্বি বেশি থাকতে পারে।

এর পরিবর্তে মাছ, বাদাম, বীজ, অ্যাভোকাডোসহ স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বির উৎস বেছে নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশি খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেলে ভাজার বদলে কম তেলে রান্না করা এবং মাছ, ডাল ও শাকসবজির পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

ভাত কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?

না। ফ্যাটি লিভার হয়েছে বলে ভাত সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সাদা ভাত, সাদা পাউরুটি ও অন্যান্য পরিশোধিত শর্করা অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।

খাবারে শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। ভাতের সঙ্গে বেশি সবজি ও ডাল রাখলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ফ্যাটি লিভারে যে খাবারগুলো রাখতে পারেন

স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—

  • বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি
  • ডাল, মসুর ও ছোলা
  • পরিমিত পূর্ণ শস্য
  • মাছ
  • চামড়া ছাড়া মুরগি
  • ডিম
  • বাদাম ও বীজ
  • পরিমিত পরিমাণ সম্পূর্ণ ফল
  • কম চিনি থাকা বা চিনি ছাড়া দই
  • স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বির উৎস

ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যপদ্ধতিতেও শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম, মাছ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অনেক ধারণা বাংলাদেশের দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

অ্যালকোহল লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভার থাকলে অ্যালকোহল সম্পূর্ণ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

লিভারের রোগ থাকলে কতটা অ্যালকোহল নিরাপদ, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নয়, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা অন্যান্য অ্যারোবিক ব্যায়ামের পাশাপাশি পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও করা যেতে পারে।

সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য রাখতে বলা হয়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তারা অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন।

ডিটক্স পানীয় কি লিভারের চর্বি কমায়?

ফ্যাটি লিভার দূর করার জন্য বিভিন্ন ডিটক্স পানীয়, হারবাল মিশ্রণ ও বিশেষ জুসের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পানীয়কে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

লিভারের চর্বি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগের কারণ নিয়ন্ত্রণ করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানো এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা।

ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নিজে থেকে নয়

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। কিছু সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা থাকলেও সেগুলোর উপকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

এ ছাড়া কিছু ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্টও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে চিকিৎসককে তা জানানো জরুরি।

দৈনন্দিন খাবারে সহজ পরিবর্তন

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে খাবারের ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ অভ্যাস করা যেতে পারে। সকালে চিনি ছাড়া চা বা কফির সঙ্গে ডিম ও আটার রুটি রাখতে পারেন। দুপুরে পরিমিত ভাতের সঙ্গে মাছ বা চামড়া ছাড়া মুরগি, ডাল ও বেশি সবজি রাখুন।

বিকেলে মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনি থাকা খাবারের পরিবর্তে পরিমিত বাদাম, ছোলা বা একটি ফল খেতে পারেন। রাতে ভাত বা রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে সবজি ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করা।

ফ্যাটি লিভার কমানোর কোনো জাদুকরি পানীয় বা ঘরোয়া উপায় নেই। দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডই গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই পরীক্ষায় ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ফলোআপ করা উচিত।

Image

#স্বাস্থ্য_পরামর্শ #ফ্যাটি_লিভার #লিভারের_চর্বি

চেকপোস্ট

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফ্যাটি লিভারে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফ্যাটি লিভার বর্তমানে পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার পেছনে অতিরিক্ত ওজন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন প্রতিরোধ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং অ্যালকোহল গ্রহণসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। অ্যালকোহল ছাড়া বিপাকীয় কারণে হওয়া ফ্যাটি লিভারকে বর্তমানে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বলা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে লিভারে জমে থাকা চর্বি কমানো এবং রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার কেন হয়?

লিভারে অল্প পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

অ্যালকোহল অতিরিক্ত গ্রহণের কারণে এক ধরনের ফ্যাটি লিভার হতে পারে। আবার অ্যালকোহল পান না করলেও স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্যাটি লিভার হতে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে লিভারে চর্বি জমার বিষয়টি ধরা পড়তে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ওজন কমানো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। শরীরের মোট ওজনের অন্তত ৫ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারের চর্বি কমতে পারে। আরও বেশি, প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমাতে পারলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারের প্রদাহসহ রোগের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যেরও উন্নতি হতে পারে।

তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ধীরে ও নিয়ম মেনে ওজন কমানো ভালো। খুব কম ক্যালরির খাবার বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার মতো কঠোর পদ্ধতি অনুসরণ না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

অতিরিক্ত চিনি কমান

ফ্যাটি লিভার থাকলে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস কমানো জরুরি। বিশেষ করে কোমল পানীয়, চিনি দেওয়া চা-কফি, প্যাকেটজাত মিষ্টি পানীয়, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনি থাকা খাবার যতটা সম্ভব সীমিত করা উচিত।

বিশেষ করে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ ও চিনি থাকা পানীয় নিয়মিত গ্রহণ না করাই ভালো।

তবে ফলের প্রাকৃতিক চিনি এবং কোমল পানীয় বা মিষ্টিতে যোগ করা চিনি এক বিষয় নয়। তাই ফ্যাটি লিভার হয়েছে বলে সব ফল বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমান

স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকা খাবার নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস, ভাজাপোড়া এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবারে এ ধরনের চর্বি বেশি থাকতে পারে।

এর পরিবর্তে মাছ, বাদাম, বীজ, অ্যাভোকাডোসহ স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বির উৎস বেছে নেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশি খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেলে ভাজার বদলে কম তেলে রান্না করা এবং মাছ, ডাল ও শাকসবজির পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

ভাত কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?

না। ফ্যাটি লিভার হয়েছে বলে ভাত সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সাদা ভাত, সাদা পাউরুটি ও অন্যান্য পরিশোধিত শর্করা অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।

খাবারে শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। ভাতের সঙ্গে বেশি সবজি ও ডাল রাখলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ফ্যাটি লিভারে যে খাবারগুলো রাখতে পারেন

স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—

  • বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি
  • ডাল, মসুর ও ছোলা
  • পরিমিত পূর্ণ শস্য
  • মাছ
  • চামড়া ছাড়া মুরগি
  • ডিম
  • বাদাম ও বীজ
  • পরিমিত পরিমাণ সম্পূর্ণ ফল
  • কম চিনি থাকা বা চিনি ছাড়া দই
  • স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বির উৎস

ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যপদ্ধতিতেও শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম, মাছ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অনেক ধারণা বাংলাদেশের দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

অ্যালকোহল লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভার থাকলে অ্যালকোহল সম্পূর্ণ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

লিভারের রোগ থাকলে কতটা অ্যালকোহল নিরাপদ, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নয়, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা অন্যান্য অ্যারোবিক ব্যায়ামের পাশাপাশি পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও করা যেতে পারে।

সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য রাখতে বলা হয়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তারা অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন।

ডিটক্স পানীয় কি লিভারের চর্বি কমায়?

ফ্যাটি লিভার দূর করার জন্য বিভিন্ন ডিটক্স পানীয়, হারবাল মিশ্রণ ও বিশেষ জুসের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পানীয়কে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

লিভারের চর্বি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগের কারণ নিয়ন্ত্রণ করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানো এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা।

ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নিজে থেকে নয়

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। কিছু সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা থাকলেও সেগুলোর উপকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

এ ছাড়া কিছু ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্টও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে চিকিৎসককে তা জানানো জরুরি।

দৈনন্দিন খাবারে সহজ পরিবর্তন

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে খাবারের ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ অভ্যাস করা যেতে পারে। সকালে চিনি ছাড়া চা বা কফির সঙ্গে ডিম ও আটার রুটি রাখতে পারেন। দুপুরে পরিমিত ভাতের সঙ্গে মাছ বা চামড়া ছাড়া মুরগি, ডাল ও বেশি সবজি রাখুন।

বিকেলে মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনি থাকা খাবারের পরিবর্তে পরিমিত বাদাম, ছোলা বা একটি ফল খেতে পারেন। রাতে ভাত বা রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে সবজি ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করা।

ফ্যাটি লিভার কমানোর কোনো জাদুকরি পানীয় বা ঘরোয়া উপায় নেই। দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডই গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই পরীক্ষায় ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ফলোআপ করা উচিত।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত