বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

সাক্ষ্য নিয়ে দেখা দিয়েছে অসঙ্গতি

নিজাম শেখ পরিবারকে ঘিরে মামলায় উঠছে নানা প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নিজাম শেখ পরিবারকে ঘিরে মামলায় উঠছে নানা প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ছবি : চেকপোস্ট

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর করফা গ্রামে একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ, মাছ চুরি ও বাঁশের পাটায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। মামলার অভিযোগ, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং কয়েকজন সাক্ষীর বর্ণনায় কিছু অসঙ্গতি সামনে আসায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, উত্তর করফা গ্রামের মো. ফোরকান শেখ বাদী হয়ে প্রতিবেশী নিজাম শেখ, তাঁর দুই ছেলে খায়রুল শেখ ও জহুরুল শেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত নিজাম শেখ দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তিনি অসুস্থ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরিকল্পিত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন শেখ বলেন, নিজাম শেখকে দীর্ঘদিন ধরে শান্ত ও নিরীহ মানুষ হিসেবে চেনেন তারা। তাঁর দাবি, বাদী অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি; বরং সন্দেহের ভিত্তিতেই মামলা করেছেন।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বাদশা মিয়া শিকদার ও আব্দুল আলী শেখ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের কাছেও বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

ঘটনার রাতের বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। আরিফুল ইসলাম আরজু জানান, আগুন লাগার পর অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরাই প্রথম চিৎকার করে স্থানীয়দের ডাকেন এবং পরে সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ রাতে আসামিরা পেট্রোল দিয়ে বাঁশের পাটায় আগুন দেন এবং বাদীকে মারধর করেন। তবে বাদী ফোরকান শেখ দাবি করেন, এর আগে তাঁর মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ এবং হুমকির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মামলার কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। হাবিবুর তালুকদার বলেন, তিনি ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং চিৎকার শুনে বাইরে এসে আগুন দেখতে পান। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সাক্ষী বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রধান আসামি নিজাম শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ঘটনার সময় তাঁর পরিবারই প্রথম আগুন নেভাতে স্থানীয়দের ডাক দেয়। তাঁর অভিযোগ, পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগ, সাক্ষ্য এবং স্থানীয়দের বিভিন্ন বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

#গোপালগঞ্জ_সংবাদ #টুঙ্গিপাড়া_খবর #নিরপেক্ষ_তদন্ত

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


নিজাম শেখ পরিবারকে ঘিরে মামলায় উঠছে নানা প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর করফা গ্রামে একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ, মাছ চুরি ও বাঁশের পাটায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। মামলার অভিযোগ, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং কয়েকজন সাক্ষীর বর্ণনায় কিছু অসঙ্গতি সামনে আসায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, উত্তর করফা গ্রামের মো. ফোরকান শেখ বাদী হয়ে প্রতিবেশী নিজাম শেখ, তাঁর দুই ছেলে খায়রুল শেখ ও জহুরুল শেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত নিজাম শেখ দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তিনি অসুস্থ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরিকল্পিত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন শেখ বলেন, নিজাম শেখকে দীর্ঘদিন ধরে শান্ত ও নিরীহ মানুষ হিসেবে চেনেন তারা। তাঁর দাবি, বাদী অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি; বরং সন্দেহের ভিত্তিতেই মামলা করেছেন।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বাদশা মিয়া শিকদার ও আব্দুল আলী শেখ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের কাছেও বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

ঘটনার রাতের বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। আরিফুল ইসলাম আরজু জানান, আগুন লাগার পর অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরাই প্রথম চিৎকার করে স্থানীয়দের ডাকেন এবং পরে সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ রাতে আসামিরা পেট্রোল দিয়ে বাঁশের পাটায় আগুন দেন এবং বাদীকে মারধর করেন। তবে বাদী ফোরকান শেখ দাবি করেন, এর আগে তাঁর মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ এবং হুমকির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মামলার কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। হাবিবুর তালুকদার বলেন, তিনি ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন এবং চিৎকার শুনে বাইরে এসে আগুন দেখতে পান। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সাক্ষী বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রধান আসামি নিজাম শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার আগে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ঘটনার সময় তাঁর পরিবারই প্রথম আগুন নেভাতে স্থানীয়দের ডাক দেয়। তাঁর অভিযোগ, পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগ, সাক্ষ্য এবং স্থানীয়দের বিভিন্ন বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত