শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

দ্রুত তদন্ত চেয়ে প্রশাসন ও দুদকের হস্তক্ষেপ দাবি

টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া ইউপিতে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া ইউপিতে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
ছবি : চেকপোস্ট

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫ নম্বর ডুমুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক অনিয়ম, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদানের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব থাকায় সাধারণ মানুষ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সেবা পেতে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। এতে সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, পরিষদে অনুমোদিত উদ্যোক্তার পরিবর্তে রতন নামে এক ব্যক্তি জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চেয়ারম্যান ও সচিবের আইডি ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধনের কাজ করছেন, যা প্রচলিত বিধিমালার পরিপন্থী। এছাড়া অনলাইনে বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনকে "তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না" বলে নতুন নিবন্ধনের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

এদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৩০ কেজি চালের কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজনের দাবি, কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হলেও তারা কোনো সুবিধা পাননি। একইভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক ব্যক্তি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অনিয়মের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকদিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিষদের সচিব দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করে বলেন, তার অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক তার এবং চেয়ারম্যানের আইডি ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধনের কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিষদে একজন বৈধ উদ্যোক্তা দায়িত্বে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

এ ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

#টুঙ্গিপাড়া_খবর #দুর্নীতিরঅভিযোগ #ডুমুরিয়াইউনিয়নপরিষদ

চেকপোস্ট

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া ইউপিতে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫ নম্বর ডুমুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক অনিয়ম, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদানের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব থাকায় সাধারণ মানুষ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সেবা পেতে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। এতে সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, পরিষদে অনুমোদিত উদ্যোক্তার পরিবর্তে রতন নামে এক ব্যক্তি জন্ম নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চেয়ারম্যান ও সচিবের আইডি ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধনের কাজ করছেন, যা প্রচলিত বিধিমালার পরিপন্থী। এছাড়া অনলাইনে বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধনকে "তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না" বলে নতুন নিবন্ধনের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

এদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৩০ কেজি চালের কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজনের দাবি, কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে তাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হলেও তারা কোনো সুবিধা পাননি। একইভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন একাধিক ব্যক্তি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অনিয়মের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েকদিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিষদের সচিব দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করে বলেন, তার অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক তার এবং চেয়ারম্যানের আইডি ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধনের কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিষদে একজন বৈধ উদ্যোক্তা দায়িত্বে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

এ ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত