ঝালকাঠিতে তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, পরের ঘণ্টাই চলে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে জেলার চার উপজেলার প্রায় সোয়া দুই লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পাশাপাশি পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ওয়ার্কশপ ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ঝালকাঠিতে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে প্রায় সোয়া দুই লাখ গ্রাহক। জেলার মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ থেকে ২০ মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে এ চাহিদা বেড়ে ২২ থেকে ২৬ মেগাওয়াটে পৌঁছে। অন্যদিকে ওজোপাডিকোর আওতাধীন জেলা শহরে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১০ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।
এর বিপরীতে বরিশাল থেকে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, কখনো দীর্ঘ সময়, আবার কখনো অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
মমতাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সমস্যা হচ্ছে। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু রাখতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মো. বাদশা খলিফা বলেন, ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না, এতে ক্ষতির পাশাপাশি খরচও বাড়ছে।
শিক্ষার্থী মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কারখানা মালিক মো. বশির রাড়ী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালানো সম্ভব হয় না। এতে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয় এবং সময়মতো কাজ সরবরাহ করা যায় না।
ঝালকাঠি ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান বলেন, ওজোপাডিকোর আওতায় জেলায় প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। নয়টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জাতীয় গ্রিড ও উপকেন্দ্র থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এদিকে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও ঝড়-বৃষ্টির সময় গাছের ডাল পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
ঝালকাঠিতে তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, পরের ঘণ্টাই চলে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে জেলার চার উপজেলার প্রায় সোয়া দুই লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পাশাপাশি পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ওয়ার্কশপ ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ঝালকাঠিতে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে প্রায় সোয়া দুই লাখ গ্রাহক। জেলার মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ থেকে ২০ মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে এ চাহিদা বেড়ে ২২ থেকে ২৬ মেগাওয়াটে পৌঁছে। অন্যদিকে ওজোপাডিকোর আওতাধীন জেলা শহরে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১০ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।
এর বিপরীতে বরিশাল থেকে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, কখনো দীর্ঘ সময়, আবার কখনো অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
মমতাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সমস্যা হচ্ছে। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু রাখতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মো. বাদশা খলিফা বলেন, ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না, এতে ক্ষতির পাশাপাশি খরচও বাড়ছে।
শিক্ষার্থী মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কারখানা মালিক মো. বশির রাড়ী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালানো সম্ভব হয় না। এতে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয় এবং সময়মতো কাজ সরবরাহ করা যায় না।
ঝালকাঠি ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান বলেন, ওজোপাডিকোর আওতায় জেলায় প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। নয়টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জাতীয় গ্রিড ও উপকেন্দ্র থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এদিকে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও ঝড়-বৃষ্টির সময় গাছের ডাল পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
