মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

দাউদকান্দিতে বেশি সংক্রমণ

জুলাইয়ে ৪৯৪ আক্রান্ত, আগস্টের শুরুতেই নতুন ১১৫ রোগী শনাক্ত

জুলাইয়ে ৪৯৪ আক্রান্ত, আগস্টের শুরুতেই নতুন ১১৫ রোগী শনাক্ত
ছবি : সংগৃহীত

বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ৪৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আগস্টের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের দিক থেকে জেলার দাউদকান্দি উপজেলা এখন ডেঙ্গুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় নতুন করে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলাতেই শনাক্ত হয়েছে ১২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত জুলাই মাসে দাউদকান্দিতে ১৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। চলতি আগস্টের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে জেলার মোট ডেঙ্গু রোগীর বড় অংশই এই উপজেলা থেকে শনাক্ত হচ্ছে।

মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গু আক্রান্ত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তার জ্বরে আক্রান্ত হন। কয়েক দিন পর তার মেয়েরও জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষা করে জানা যায়, দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

এদিকে কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়াও গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনি জানান, বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ থাকতে হতো। এরপর জ্বরে আক্রান্ত হলে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে হাসপাতালটিতে ২৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্ষা অব্যাহত থাকলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, গত বছর দাউদকান্দি পৌরসভার সাহাপাড়া, দোনারচর ও সবজিকান্দি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি ছিল। এবারও মূলত ওই এলাকাগুলো ও আশপাশ থেকে রোগীরা আসছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

#ডেঙ্গু_আতঙ্ক #কুমিল্লায়_ডেঙ্গু #দাউদকান্দি_ডেঙ্গু_হটস্পট

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


জুলাইয়ে ৪৯৪ আক্রান্ত, আগস্টের শুরুতেই নতুন ১১৫ রোগী শনাক্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ৪৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আগস্টের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের দিক থেকে জেলার দাউদকান্দি উপজেলা এখন ডেঙ্গুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় নতুন করে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলাতেই শনাক্ত হয়েছে ১২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত জুলাই মাসে দাউদকান্দিতে ১৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। চলতি আগস্টের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে জেলার মোট ডেঙ্গু রোগীর বড় অংশই এই উপজেলা থেকে শনাক্ত হচ্ছে।

মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গু আক্রান্ত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তার জ্বরে আক্রান্ত হন। কয়েক দিন পর তার মেয়েরও জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষা করে জানা যায়, দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

এদিকে কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়াও গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনি জানান, বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ থাকতে হতো। এরপর জ্বরে আক্রান্ত হলে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে হাসপাতালটিতে ২৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্ষা অব্যাহত থাকলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, গত বছর দাউদকান্দি পৌরসভার সাহাপাড়া, দোনারচর ও সবজিকান্দি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি ছিল। এবারও মূলত ওই এলাকাগুলো ও আশপাশ থেকে রোগীরা আসছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত