বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

ইসলাম

কোরআন তিলাওয়াতের সমান ফজিলত

ঘুমের আগে এই ছোট সুরা, সওয়াব কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ

ঘুমের আগে এই ছোট সুরা, সওয়াব কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করছেন শিশু। ছবি: মাদ্রাসাত আল-কোরআন

পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা সুরা ইখলাস। মাত্র চার আয়াতের এই সুরাটি মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলা হয়েছে।

সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ। এতে মহান আল্লাহর একত্ব, তাঁর অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করা কঠিন মনে করো?’

সাহাবিরা বললেন, কার সাধ্য আছে এমনটি করার? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাস) কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।’
—সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৭

অন্য এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের একত্র করে তাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করার কথা জানান। এরপর তিনি সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করে ঘরে চলে যান। পরে ফিরে এসে জানান, সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
—সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১২

সুরা ইখলাসের বিশেষ মর্যাদা

সুরা ইখলাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে মহান আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর একত্বের ঘোষণা রয়েছে। এই কারণেই সাহাবিদের কাছে সুরাটি বিশেষভাবে প্রিয় ছিল।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি দলের নেতা করে পাঠিয়েছিলেন। তিনি নামাজে কিরাত শেষ করার সময় নিয়মিত সুরা ইখলাস পড়তেন।

ফিরে এসে দলের সদস্যরা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি ওই সাহাবিকে এর কারণ জিজ্ঞেস করতে বলেন। তিনি জানান, এই সুরায় আল্লাহ তাআলার গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে এবং এ কারণে সুরাটি তাঁর খুব পছন্দ।

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলাও তাকে পছন্দ করেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬

ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস পড়া

সুরা ইখলাসের ফজিলত বর্ণিত হওয়ায় এটি নিয়মিত তিলাওয়াত করা অত্যন্ত বরকতময় আমল। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে কোরআনের বিভিন্ন সুরা ও আয়াত পড়ার আমল মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত।

তবে সুরা ইখলাস একবার পড়লেই ঠিক ‘কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়ার সমান’ এ কথাটি হাদিসের ভাষায় সুরাটির মর্যাদা বোঝায়। এর অর্থ কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের বিকল্প হিসেবে পুরো কোরআন তিলাওয়াতের প্রয়োজন নেই এমনটি নয়। কোরআন তিলাওয়াতের পূর্ণ ফজিলত ও আমল আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাত্র চার আয়াতের এই সুরায় মহান আল্লাহর একত্ব ও মহত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। তাই ঘুমানোর আগে কিংবা দিনের যেকোনো সময়ে সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করা একজন মুমিনের জন্য বরকতময় আমল হতে পারে।

#ইসলামিকআমল #সুরাইখলাস #কোরআনেরফজিলত

চেকপোস্ট

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


ঘুমের আগে এই ছোট সুরা, সওয়াব কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা সুরা ইখলাস। মাত্র চার আয়াতের এই সুরাটি মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলা হয়েছে।

সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ। এতে মহান আল্লাহর একত্ব, তাঁর অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করা কঠিন মনে করো?’

সাহাবিরা বললেন, কার সাধ্য আছে এমনটি করার? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাস) কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।’
—সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৭

অন্য এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের একত্র করে তাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করার কথা জানান। এরপর তিনি সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করে ঘরে চলে যান। পরে ফিরে এসে জানান, সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
—সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১২

সুরা ইখলাসের বিশেষ মর্যাদা

সুরা ইখলাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে মহান আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর একত্বের ঘোষণা রয়েছে। এই কারণেই সাহাবিদের কাছে সুরাটি বিশেষভাবে প্রিয় ছিল।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি দলের নেতা করে পাঠিয়েছিলেন। তিনি নামাজে কিরাত শেষ করার সময় নিয়মিত সুরা ইখলাস পড়তেন।

ফিরে এসে দলের সদস্যরা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি ওই সাহাবিকে এর কারণ জিজ্ঞেস করতে বলেন। তিনি জানান, এই সুরায় আল্লাহ তাআলার গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে এবং এ কারণে সুরাটি তাঁর খুব পছন্দ।

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলাও তাকে পছন্দ করেন।
সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬

ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস পড়া

সুরা ইখলাসের ফজিলত বর্ণিত হওয়ায় এটি নিয়মিত তিলাওয়াত করা অত্যন্ত বরকতময় আমল। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে কোরআনের বিভিন্ন সুরা ও আয়াত পড়ার আমল মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত।

তবে সুরা ইখলাস একবার পড়লেই ঠিক ‘কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়ার সমান’ এ কথাটি হাদিসের ভাষায় সুরাটির মর্যাদা বোঝায়। এর অর্থ কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের বিকল্প হিসেবে পুরো কোরআন তিলাওয়াতের প্রয়োজন নেই এমনটি নয়। কোরআন তিলাওয়াতের পূর্ণ ফজিলত ও আমল আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাত্র চার আয়াতের এই সুরায় মহান আল্লাহর একত্ব ও মহত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। তাই ঘুমানোর আগে কিংবা দিনের যেকোনো সময়ে সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করা একজন মুমিনের জন্য বরকতময় আমল হতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত