শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

গড়ে উঠেছে বসত ও দোকানপাট

গোমতী তীরে সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ, পাউবো জানেই না!

গোমতী তীরে সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ, পাউবো জানেই না!
ছবি : চেকপোস্ট

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর তীরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী চক্র স্ট্যাম্পের মাধ্যমে প্রতি শতক জমি প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র গোমতী নদীর পাড়সংলগ্ন পাউবোর জমি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে আসছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা হাশেম রাজা, সুন্দর আলী ও জাকির নামের ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এসব জমি কিনেছেন।

নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার সঞ্চয় ও ধারদেনা করে এসব জমি কিনে সেখানে বসতি গড়েছে। জমি কেনার সময় তাদের বলা হয়, এগুলো লিজ বা বৈধ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী এলাকায় টিনশেড ও আধাপাকা ঘরের পাশাপাশি একাধিক রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে এসব স্থাপনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখানে যারা জমি কিনেছেন তাদের অধিকাংশই দরিদ্র মানুষ। তারা না বুঝেই দালালের খপ্পরে পড়ে সব হারিয়েছেন।

আরেক বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রতারিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনও দরকার।”

অভিযোগের বিষয়ে হাশেম রাজা বলেন, জায়গাটি দখলসূত্রে তাদের ছিল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি তা তারা জানতেন না। তার দাবি, তার বাবা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এসব বিক্রি করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্রেতাদের জানানো হয়েছিল।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে জমি বিক্রি বা ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এসব সম্পূর্ণ অবৈধ।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহারিয়ার বলেন, জমি বিক্রির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। অবৈধ দখল ও স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুতই সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

তিনি আরও জানান, কিছু দখলদার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা রয়েছে। তবে সরকারি জমি কোনোভাবেই অবৈধ দখল বা বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, গোমতী নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে।

Image

#কুমিল্লা_সংবাদ #সরকারি_জমি_দখল #গোমতী_নদী

চেকপোস্ট

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


গোমতী তীরে সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ, পাউবো জানেই না!

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর তীরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী চক্র স্ট্যাম্পের মাধ্যমে প্রতি শতক জমি প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র গোমতী নদীর পাড়সংলগ্ন পাউবোর জমি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে আসছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা হাশেম রাজা, সুন্দর আলী ও জাকির নামের ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এসব জমি কিনেছেন।

নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার সঞ্চয় ও ধারদেনা করে এসব জমি কিনে সেখানে বসতি গড়েছে। জমি কেনার সময় তাদের বলা হয়, এগুলো লিজ বা বৈধ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী এলাকায় টিনশেড ও আধাপাকা ঘরের পাশাপাশি একাধিক রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে এসব স্থাপনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখানে যারা জমি কিনেছেন তাদের অধিকাংশই দরিদ্র মানুষ। তারা না বুঝেই দালালের খপ্পরে পড়ে সব হারিয়েছেন।

আরেক বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রতারিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনও দরকার।”

অভিযোগের বিষয়ে হাশেম রাজা বলেন, জায়গাটি দখলসূত্রে তাদের ছিল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি তা তারা জানতেন না। তার দাবি, তার বাবা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এসব বিক্রি করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্রেতাদের জানানো হয়েছিল।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে জমি বিক্রি বা ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এসব সম্পূর্ণ অবৈধ।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহারিয়ার বলেন, জমি বিক্রির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। অবৈধ দখল ও স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুতই সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

তিনি আরও জানান, কিছু দখলদার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নেওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা রয়েছে। তবে সরকারি জমি কোনোভাবেই অবৈধ দখল বা বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, গোমতী নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত