গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে ওঠা ভোটার হয়রানি, অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত দীর্ঘ ১৪ দিনেও শেষ হয়নি। গত ২৩ জুন জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে তদন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে এমন আচরণ করছেন, যেন তারা আগেই দায়মুক্তি পেয়ে গেছেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি আমলে নেয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনায় ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রবিউল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ২৩ জুন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অলিউর রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ভুক্তভোগীরা লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ তুলে ধরেন।
শুনানিতে উঠে আসে যেসব অভিযোগ
নতুন ভোটার হতে আসা দিনমজুর সবুজ বালাকে তার পোশাকের মূল্য নিয়ে কটূক্তি করে ভোটার না করার অভিযোগ।
গৃহবধূ রিপা আক্তারকে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ না করে বাবার ঠিকানায় যেতে বাধ্য করার অভিযোগ।
মোসাম্মাৎ শাবানা আক্তার সব কাগজপত্র জমা ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার পরও কয়েক মাস ঘুরে শেষে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন বাতিল হওয়ার অভিযোগ।
আনুকুল চন্দ্র ঘোষ ও উর্মিলা মিত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও দীর্ঘদিন ভোটার হতে না পারার অভিযোগ।
কয়েকজন আবেদনকারীর ভোটার নিবন্ধনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডাটাবেজ থেকে মুছে ফেলার অভিযোগও তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এক আবেদনকারীর দুটি পৃথক নিবন্ধন ফরম নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগও তদন্তে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘মনগড়া’ নিয়মে হয়রানির অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের দাবি, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীকে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ব্যক্তিভেদে ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ এবং সামান্য বিষয়েও পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
আগেও ছিল অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভোটার হয়রানি ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মাদ রবিউল আলম বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এখনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে ওঠা ভোটার হয়রানি, অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত দীর্ঘ ১৪ দিনেও শেষ হয়নি। গত ২৩ জুন জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে তদন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে এমন আচরণ করছেন, যেন তারা আগেই দায়মুক্তি পেয়ে গেছেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি আমলে নেয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনায় ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রবিউল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ২৩ জুন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অলিউর রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ভুক্তভোগীরা লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ তুলে ধরেন।
শুনানিতে উঠে আসে যেসব অভিযোগ
নতুন ভোটার হতে আসা দিনমজুর সবুজ বালাকে তার পোশাকের মূল্য নিয়ে কটূক্তি করে ভোটার না করার অভিযোগ।
গৃহবধূ রিপা আক্তারকে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ না করে বাবার ঠিকানায় যেতে বাধ্য করার অভিযোগ।
মোসাম্মাৎ শাবানা আক্তার সব কাগজপত্র জমা ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার পরও কয়েক মাস ঘুরে শেষে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন বাতিল হওয়ার অভিযোগ।
আনুকুল চন্দ্র ঘোষ ও উর্মিলা মিত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও দীর্ঘদিন ভোটার হতে না পারার অভিযোগ।
কয়েকজন আবেদনকারীর ভোটার নিবন্ধনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডাটাবেজ থেকে মুছে ফেলার অভিযোগও তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এক আবেদনকারীর দুটি পৃথক নিবন্ধন ফরম নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগও তদন্তে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘মনগড়া’ নিয়মে হয়রানির অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের দাবি, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীকে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ব্যক্তিভেদে ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ এবং সামান্য বিষয়েও পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
আগেও ছিল অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভোটার হয়রানি ও জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মাদ রবিউল আলম বলেন, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এখনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তদন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
