শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

এখন প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

গঙ্গাচড়ায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তার দাবি

গঙ্গাচড়ায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তার দাবি
ছবি: চেকপোস্ট

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টনকে কেন্দ্র করে হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার ছিনতাই, শ্লীলতাহানি ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরিফুল ইসলামের মেয়ে শারমিন আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম (৫২) ও পরিবারের সদস্যরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ভাই ও ভাতিজাদের বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় তিনি মো. হায়দার আলী, মো. মেরাজ আলী, মো. আব্দুস সোবহান, মো. হামিদুল ইসলাম ও মো. হযরত বেলালকে অভিযুক্ত করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই দুপুরে পৈতৃক জমিতে জোরপূর্বক মাপজোকের প্রতিবাদ করলে শরিফুল ইসলামকে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রী নাজমিন বেগম ও মেয়ে শারমিন আক্তারও হামলার শিকার হন। এ সময় শারমিনের কানে থাকা প্রায় ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের ঝুমকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসা শেষে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে একই দিন বিকেলে গঙ্গাচড়া বাজার এলাকায় নাজমিন বেগমের ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, হামলার সময় স্থানীয়দের সামনেই অভিযুক্তরা তাদের হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁর এজাহার গ্রহণ করেননি। নিরুপায় হয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করে তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকি-ধমকি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

তবে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, "ওই ঘটনায় উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। তারা পারিবারিকভাবে মীমাংসার কথা বলেছিল। পরে শরিফুল ইসলাম আর যোগাযোগ করেননি। তিনি এখন মামলা দিতে চাইলে সেটিও গ্রহণ করা হবে।

#রংপুর #গঙ্গাচড়া #সংবাদ_সম্মেলন

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


গঙ্গাচড়ায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তার দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টনকে কেন্দ্র করে হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার ছিনতাই, শ্লীলতাহানি ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরিফুল ইসলামের মেয়ে শারমিন আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম (৫২) ও পরিবারের সদস্যরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ভাই ও ভাতিজাদের বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় তিনি মো. হায়দার আলী, মো. মেরাজ আলী, মো. আব্দুস সোবহান, মো. হামিদুল ইসলাম ও মো. হযরত বেলালকে অভিযুক্ত করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই দুপুরে পৈতৃক জমিতে জোরপূর্বক মাপজোকের প্রতিবাদ করলে শরিফুল ইসলামকে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রী নাজমিন বেগম ও মেয়ে শারমিন আক্তারও হামলার শিকার হন। এ সময় শারমিনের কানে থাকা প্রায় ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের ঝুমকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসা শেষে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে একই দিন বিকেলে গঙ্গাচড়া বাজার এলাকায় নাজমিন বেগমের ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারটির দাবি, হামলার সময় স্থানীয়দের সামনেই অভিযুক্তরা তাদের হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেয়। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁর এজাহার গ্রহণ করেননি। নিরুপায় হয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করে তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকি-ধমকি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

তবে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, "ওই ঘটনায় উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। তারা পারিবারিকভাবে মীমাংসার কথা বলেছিল। পরে শরিফুল ইসলাম আর যোগাযোগ করেননি। তিনি এখন মামলা দিতে চাইলে সেটিও গ্রহণ করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত