রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

মিথ্যা তথ্য’ দেওয়ার দাবি মতিউরের

খুলনা ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই মতিউরের বেপরোয়া ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

খুলনা ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই মতিউরের বেপরোয়া ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ
সহকারী ট্রাফিক সাব ইন্সপেক্টর এটিএসআই মোঃ মতিউর রহমান। ছবি

খুলনা মহানগরীর পুলিশের ( কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগে দীর্ঘ দিন ধরে একই পদে চেপে বসে সীমাহীন দুর্নীতি, সরকারি সম্পত্তি বিক্রি এবং চোরাই সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে বিশাল অবৈধ সম্রাজ্য গড়ে তোলার চাঞ্চক্যর অভিযোগ উঠেছে সহকারী ট্রাফিক সাব - ইন্সপেক্টর ( এটিএসআই) মোঃ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। বিগত সরকারের আমলে সাবেক পুলিশ কমিশনার ( চাকুরিচ্যুত)  মোজাম্মেল হকের বিশ্বস্ত লোক হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক চালকদের কাছে আতংকের নাম ওয়ে ওঠা এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ডজনখানেক লিখিত অভিযোগ হলেও অর্থের বিনিময়ে তা বারবার ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

অনুসন্ধানে জানাযায়, কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন রোড ব্যারিয়ার, সরকারি ট্রাফিক সাইন বোর্ড এবং অফিসের মেরামত কাজের পুরাতন ইট, লোহা, লক্কড়, এমনকি বাউন্ডারির তারকাটা পর্যন্ত নিজের নিয়ন্ত্রনে রেখে গোপনে বিক্রি করেছেন মতিউর। 

সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কতৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়াই জোড়াগেট এলাকার একটি ভাঙারির দোকানে বিপুল পরিমানে সরকারি রোড ব্যারিয়ার ও সাইন বোর্ড বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ রয়েছে, জোড়াগেট ও নিউমার্কেট এলাকায় এটিএসআই মতিউরের প্রত্যক্ষ মদদে একটি সুসংগঠিত চোর ও মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তার আশ্রয়ে থাকা চোর চক্রটি পার্শ্ববর্তী পুলিশ কোয়ার্টার এবং সিএন্ডবি কলোনীর পরিত্যাক্ত ভবন গুলো থেকে সরকারি পুরাতন দরজা- জানালা রড এবং ভুগর্ভস্থ কোটি টাকার টিএনটি লাইনের তার কেটে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। চোরাই মালামাল বিক্রির একটি নিদিষ্ট লভ্যাংশ নিয়মিত পৌঁছে যায় কর্মকর্তার পকেটে। 

ট্রাফিক সার্জেন্টদের জব্দ করা গাড়ি এবং বড় অংকের প্রসিকিউশন ( মামলা)  মওকুফ করানোর নাম করে ডিসির সাথে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজস্ব লোক বসাতে শুরু করেছেন মোটা অংকের বদলি বানিজ্য। সম্প্রতি ট্রাফিক টিএআই শাখায় নিজের ব্যাচমেট এটিএসআই আবু সায়েমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে কাংখিত পদে অফিস আদেশ করিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে। 

এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ভুয়া ভাউচার বিল তৈরি করে রেকার শাখা থেকে নিয়মিত মোটা অংকের সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রাফিক অফিসের অভ্যন্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করা এটিএসআই মতিউরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান সহকর্মী ও সাধারণ পুলিশ সদস্যরাও। কেউ তার অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে ট্রাফিক বিভাগ থেকে দুর্গম এলাকায় বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। 

এ ব্যাপারে ( এটিএসআই) মো: মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি চক্র তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করছে। কেএমপির অভ্যন্তরীন শান্তি শৃংখলা রক্ষা  এবং ট্রাফিক বিভাগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বরজমিনে নিরপেক্ষ ও বিভাগীয় তদন্ত চালিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

#দুর্নীতিরঅভিযোগ #কেএমপি #খুলনাট্রাফিক

চেকপোস্ট

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনা ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই মতিউরের বেপরোয়া ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

খুলনা মহানগরীর পুলিশের ( কেএমপি) ট্রাফিক বিভাগে দীর্ঘ দিন ধরে একই পদে চেপে বসে সীমাহীন দুর্নীতি, সরকারি সম্পত্তি বিক্রি এবং চোরাই সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে বিশাল অবৈধ সম্রাজ্য গড়ে তোলার চাঞ্চক্যর অভিযোগ উঠেছে সহকারী ট্রাফিক সাব - ইন্সপেক্টর ( এটিএসআই) মোঃ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। বিগত সরকারের আমলে সাবেক পুলিশ কমিশনার ( চাকুরিচ্যুত)  মোজাম্মেল হকের বিশ্বস্ত লোক হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক চালকদের কাছে আতংকের নাম ওয়ে ওঠা এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ডজনখানেক লিখিত অভিযোগ হলেও অর্থের বিনিময়ে তা বারবার ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

অনুসন্ধানে জানাযায়, কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন রোড ব্যারিয়ার, সরকারি ট্রাফিক সাইন বোর্ড এবং অফিসের মেরামত কাজের পুরাতন ইট, লোহা, লক্কড়, এমনকি বাউন্ডারির তারকাটা পর্যন্ত নিজের নিয়ন্ত্রনে রেখে গোপনে বিক্রি করেছেন মতিউর। 

সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কতৃপক্ষের কোন অনুমতি ছাড়াই জোড়াগেট এলাকার একটি ভাঙারির দোকানে বিপুল পরিমানে সরকারি রোড ব্যারিয়ার ও সাইন বোর্ড বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ রয়েছে, জোড়াগেট ও নিউমার্কেট এলাকায় এটিএসআই মতিউরের প্রত্যক্ষ মদদে একটি সুসংগঠিত চোর ও মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তার আশ্রয়ে থাকা চোর চক্রটি পার্শ্ববর্তী পুলিশ কোয়ার্টার এবং সিএন্ডবি কলোনীর পরিত্যাক্ত ভবন গুলো থেকে সরকারি পুরাতন দরজা- জানালা রড এবং ভুগর্ভস্থ কোটি টাকার টিএনটি লাইনের তার কেটে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। চোরাই মালামাল বিক্রির একটি নিদিষ্ট লভ্যাংশ নিয়মিত পৌঁছে যায় কর্মকর্তার পকেটে। 

ট্রাফিক সার্জেন্টদের জব্দ করা গাড়ি এবং বড় অংকের প্রসিকিউশন ( মামলা)  মওকুফ করানোর নাম করে ডিসির সাথে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজস্ব লোক বসাতে শুরু করেছেন মোটা অংকের বদলি বানিজ্য। সম্প্রতি ট্রাফিক টিএআই শাখায় নিজের ব্যাচমেট এটিএসআই আবু সায়েমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে কাংখিত পদে অফিস আদেশ করিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে। 

এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ভুয়া ভাউচার বিল তৈরি করে রেকার শাখা থেকে নিয়মিত মোটা অংকের সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রাফিক অফিসের অভ্যন্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করা এটিএসআই মতিউরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান সহকর্মী ও সাধারণ পুলিশ সদস্যরাও। কেউ তার অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে ট্রাফিক বিভাগ থেকে দুর্গম এলাকায় বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। 

এ ব্যাপারে ( এটিএসআই) মো: মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি চক্র তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করছে। কেএমপির অভ্যন্তরীন শান্তি শৃংখলা রক্ষা  এবং ট্রাফিক বিভাগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বরজমিনে নিরপেক্ষ ও বিভাগীয় তদন্ত চালিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত