বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

উন্মুক্ত হবে মূল্যবান সংগ্রহ

কবি আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ

কবি আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে কবি আবদুল হাই শিকদারের বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত

বিশিষ্ট কবি আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তাঁর নামে একটি বিশেষ কর্নার প্রতিষ্ঠা অথবা পৃথক স্থানে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়; বরং দেশের জ্ঞান, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং এ কাজে ইউজিসির সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এই উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি দুর্লভ বইগুলো ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তাঁর সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারেও পাওয়া যায় না।

তিনি জানান, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার অথবা পৃথক সংরক্ষণাগার গড়ে তুলবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে ‘নজরুল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা, ‘নজরুল অধ্যাপক’ পদ পুনরায় চালু, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে গবেষণা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

#ইউজিসি #বেগম_রোকেয়া_বিশ্ববিদ্যালয় #আবদুল_হাই_শিকদার

চেকপোস্ট

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


কবি আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশিষ্ট কবি আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তাঁর নামে একটি বিশেষ কর্নার প্রতিষ্ঠা অথবা পৃথক স্থানে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়; বরং দেশের জ্ঞান, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং এ কাজে ইউজিসির সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এই উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি দুর্লভ বইগুলো ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তাঁর সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারেও পাওয়া যায় না।

তিনি জানান, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার অথবা পৃথক সংরক্ষণাগার গড়ে তুলবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে আবদুল হাই শিকদার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নজরুল গবেষণা জোরদারে ‘নজরুল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা, ‘নজরুল অধ্যাপক’ পদ পুনরায় চালু, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জাতীয় সংস্কৃতি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে গবেষণা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত