বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

ব্যবসা-বাণিজ্য

তারল্য সংকটের মধ্যেই স্বস্তি

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা ফেরার জোয়ার, ২০০০ গ্রাহক ফিরে আসায় ১৫০ কোটি টাকা জমা

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা ফেরার জোয়ার, ২০০০ গ্রাহক ফিরে আসায় ১৫০ কোটি টাকা জমা
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আবারও ফিরতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিনে প্রায় ২০০০ গ্রাহক তাদের বন্ধ বা স্থানান্তরিত হিসাব পুনরায় চালু করেছেন। এতে ব্যাংকটিতে ফের জমা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বুধবার একদিনেই ১ হাজার ৪৪২টি হিসাব পুনরায় চালু হয়। তার আগের দিন মঙ্গলবার আরও ৫৫২টি হিসাব সক্রিয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের প্রবণতা কমে এসেছে এবং অনেকেই পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে ফিরে আসছেন।

গত ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক আতঙ্কে তাদের আমানত তুলে নিয়েছিলেন বা অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন আবার ইসলামী ব্যাংকে ফিরে আসছেন। এর পেছনে ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও বিশেষ সুবিধাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আগের তুলনায় আমানত উত্তোলনের হার অনেক কমে গেছে। যারা অন্য ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে ফিরছেন। প্রক্রিয়াগত কারণে কিছু সময় লাগলেও এটি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

সম্প্রতি ব্যাংকটি এক বিশেষ নোটিশে জানায়, যেসব গ্রাহক সঞ্চয় ও আমানত হিসাব মেয়াদ পূর্তির আগেই ভেঙেছেন, তারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব পুনরায় চালু করলে প্রি-ম্যাচিউর নগদায়নের কারণে কোনো চার্জ বা ক্ষতি আরোপ করা হবে না। এই ঘোষণার পর থেকেই গ্রাহক ফেরার হার বাড়ে।

অন্যদিকে, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতিতেও ওঠানামা দেখা গেছে। বুধবার পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নগদ তারল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা, যা ১ জুনে ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। এই সময়ে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার তারল্য কমে যায়।

তবে গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চার দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৭ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রদান করে। এর মধ্যে বুধবার ১ হাজার কোটি টাকা, মঙ্গলবার ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সোমবার ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং রোববার ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিচালনা, শাসনব্যবস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সাত দফা দাবি উত্থাপন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকের আস্থা কিছুটা ফিরতে শুরু করলেও ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর।

#ব্যাংকসংকট #ইসলামীব্যাংক #প্রবাসী_অর্থনীতি

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকে আস্থা ফেরার জোয়ার, ২০০০ গ্রাহক ফিরে আসায় ১৫০ কোটি টাকা জমা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আবারও ফিরতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকদিনে প্রায় ২০০০ গ্রাহক তাদের বন্ধ বা স্থানান্তরিত হিসাব পুনরায় চালু করেছেন। এতে ব্যাংকটিতে ফের জমা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকার বেশি।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বুধবার একদিনেই ১ হাজার ৪৪২টি হিসাব পুনরায় চালু হয়। তার আগের দিন মঙ্গলবার আরও ৫৫২টি হিসাব সক্রিয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের প্রবণতা কমে এসেছে এবং অনেকেই পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে ফিরে আসছেন।

গত ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক আতঙ্কে তাদের আমানত তুলে নিয়েছিলেন বা অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন আবার ইসলামী ব্যাংকে ফিরে আসছেন। এর পেছনে ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও বিশেষ সুবিধাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, আগের তুলনায় আমানত উত্তোলনের হার অনেক কমে গেছে। যারা অন্য ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে ফিরছেন। প্রক্রিয়াগত কারণে কিছু সময় লাগলেও এটি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

সম্প্রতি ব্যাংকটি এক বিশেষ নোটিশে জানায়, যেসব গ্রাহক সঞ্চয় ও আমানত হিসাব মেয়াদ পূর্তির আগেই ভেঙেছেন, তারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে হিসাব পুনরায় চালু করলে প্রি-ম্যাচিউর নগদায়নের কারণে কোনো চার্জ বা ক্ষতি আরোপ করা হবে না। এই ঘোষণার পর থেকেই গ্রাহক ফেরার হার বাড়ে।

অন্যদিকে, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতিতেও ওঠানামা দেখা গেছে। বুধবার পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নগদ তারল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা, যা ১ জুনে ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। এই সময়ে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার তারল্য কমে যায়।

তবে গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চার দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৭ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা প্রদান করে। এর মধ্যে বুধবার ১ হাজার কোটি টাকা, মঙ্গলবার ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সোমবার ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং রোববার ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিচালনা, শাসনব্যবস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সাত দফা দাবি উত্থাপন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকের আস্থা কিছুটা ফিরতে শুরু করলেও ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত