জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও এখনই ফুটবলকে বিদায় বলছেন না লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি টানার পর তার মূল মনোযোগ থাকবে ইন্টার মায়ামিকে ঘিরে। মাঠের নতুন লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি ফুটবলের বাইরেও নিজের ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নিচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
মেসির সঙ্গে ইন্টার মায়ামির চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সালের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) মৌসুম পর্যন্ত। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি নয়, নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপরই ক্যারিয়ারের শেষ সময় নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’।
জাতীয় দল থেকে অবসরের আগেও ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন মেসি। রোববার মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৭-১ গোলের জয়ে একাই চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। ১৮ গোল নিয়ে বর্তমানে এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
‘মার্কা’র হিসাবে ব্যক্তিগত পুরস্কার বাদ দিলে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৪৮টি শিরোপা জিতেছেন মেসি। সামনে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তার।
ইন্টার মায়ামির হয়ে বর্তমানে ২০২৬ এমএলএস কাপ জয়ের লড়াইয়ে আছেন তিনি। এরপর ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের সূচি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আয়োজিত সংক্ষিপ্ত মৌসুমেও খেলতে পারেন মেসি।
এ ছাড়া ২০২৭-২৮ মৌসুমের এমএলএস এবং ২০২৮ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। কনকাকাফের এই মহাদেশীয় শিরোপা এখনো জিততে পারেনি ইন্টার মায়ামি। ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবার এই ট্রফি এনে দেওয়া তাই মেসির ক্যারিয়ারের শেষদিকের অন্যতম বড় লক্ষ্য হতে পারে।
জাতীয় দলকে বিদায় বললেও ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড় থেকে এখনই ছিটকে যাচ্ছেন না মেসি। ‘মার্কা’ অক্টোবরে তার নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। তবে এটি এখনো সংবাদমাধ্যমটির নিজস্ব মূল্যায়ন।
একই মাসে স্পেনের ওভিয়েদোতে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার গ্রহণ করার কথা রয়েছে মেসির। খেলাধুলায় অবদান ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের এই সম্মাননার জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও মেসি চাইলে তার আগেই ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন। আবার শরীর ও মন সায় দিলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মাঠে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
‘মার্কা’র দাবি, অবসরের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির ওপরই ছেড়ে দেবে ইন্টার মায়ামি। খেলা ছাড়ার পর তাকে ক্লাবটির মালিকানা বা পরিচালনা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো মেসি কিংবা ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
২০২৭ সালের ২৪ জুন ৪০ বছরে পা দেবেন মেসি। ফুটবল ছাড়ার পর পরিবার ও ব্যবসায় আরও বেশি সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হওয়ার পাশাপাশি পানীয়সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ও তার বিনিয়োগ রয়েছে।
ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ধরে রাখতে চলতি বছর স্পেনের পঞ্চম স্তরের ক্লাব উনিও এসপোর্তিভা কর্নেয়া কিনেছেন মেসি। ক্লাবটির যুব ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটিকে আরও উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলে মেসি আবার কাতালুনিয়ায় বসবাস শুরু করতে পারেন বলেও জানিয়েছে ‘মার্কা’। বার্সেলোনার কাছের কাস্তেলদেফেলসে এখনো তার বাড়ি রয়েছে। সেখান থেকেই পরিবার, ব্যবসা এবং কর্নেয়ার কার্যক্রম দেখাশোনা করতে পারেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে খেলোয়াড়ি অধ্যায় শেষ হলেও দেশটির ফুটবলের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা ফুটবলের স্থায়ী শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও তাকে দেখা যেতে পারে।
জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না মেসিকে। তবে ইন্টার মায়ামির মাঠ, নতুন শিরোপার লক্ষ্য এবং ফুটবলের বাইরের পরিকল্পনা সব মিলিয়ে তার গল্পের শেষ এখনই হচ্ছে না। বরং শুরু হচ্ছে মেসির ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও এখনই ফুটবলকে বিদায় বলছেন না লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি টানার পর তার মূল মনোযোগ থাকবে ইন্টার মায়ামিকে ঘিরে। মাঠের নতুন লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি ফুটবলের বাইরেও নিজের ভবিষ্যৎ গুছিয়ে নিচ্ছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।
মেসির সঙ্গে ইন্টার মায়ামির চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সালের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) মৌসুম পর্যন্ত। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি নয়, নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপরই ক্যারিয়ারের শেষ সময় নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’।
জাতীয় দল থেকে অবসরের আগেও ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন মেসি। রোববার মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৭-১ গোলের জয়ে একাই চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। ১৮ গোল নিয়ে বর্তমানে এমএলএসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
‘মার্কা’র হিসাবে ব্যক্তিগত পুরস্কার বাদ দিলে ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৪৮টি শিরোপা জিতেছেন মেসি। সামনে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তার।
ইন্টার মায়ামির হয়ে বর্তমানে ২০২৬ এমএলএস কাপ জয়ের লড়াইয়ে আছেন তিনি। এরপর ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের সূচি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত আয়োজিত সংক্ষিপ্ত মৌসুমেও খেলতে পারেন মেসি।
এ ছাড়া ২০২৭-২৮ মৌসুমের এমএলএস এবং ২০২৮ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। কনকাকাফের এই মহাদেশীয় শিরোপা এখনো জিততে পারেনি ইন্টার মায়ামি। ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবার এই ট্রফি এনে দেওয়া তাই মেসির ক্যারিয়ারের শেষদিকের অন্যতম বড় লক্ষ্য হতে পারে।
জাতীয় দলকে বিদায় বললেও ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড় থেকে এখনই ছিটকে যাচ্ছেন না মেসি। ‘মার্কা’ অক্টোবরে তার নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। তবে এটি এখনো সংবাদমাধ্যমটির নিজস্ব মূল্যায়ন।
একই মাসে স্পেনের ওভিয়েদোতে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার গ্রহণ করার কথা রয়েছে মেসির। খেলাধুলায় অবদান ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের এই সম্মাননার জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও মেসি চাইলে তার আগেই ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন। আবার শরীর ও মন সায় দিলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মাঠে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
‘মার্কা’র দাবি, অবসরের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির ওপরই ছেড়ে দেবে ইন্টার মায়ামি। খেলা ছাড়ার পর তাকে ক্লাবটির মালিকানা বা পরিচালনা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো মেসি কিংবা ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
২০২৭ সালের ২৪ জুন ৪০ বছরে পা দেবেন মেসি। ফুটবল ছাড়ার পর পরিবার ও ব্যবসায় আরও বেশি সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হওয়ার পাশাপাশি পানীয়সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ও তার বিনিয়োগ রয়েছে।
ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ধরে রাখতে চলতি বছর স্পেনের পঞ্চম স্তরের ক্লাব উনিও এসপোর্তিভা কর্নেয়া কিনেছেন মেসি। ক্লাবটির যুব ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটিকে আরও উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলে মেসি আবার কাতালুনিয়ায় বসবাস শুরু করতে পারেন বলেও জানিয়েছে ‘মার্কা’। বার্সেলোনার কাছের কাস্তেলদেফেলসে এখনো তার বাড়ি রয়েছে। সেখান থেকেই পরিবার, ব্যবসা এবং কর্নেয়ার কার্যক্রম দেখাশোনা করতে পারেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে খেলোয়াড়ি অধ্যায় শেষ হলেও দেশটির ফুটবলের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা ফুটবলের স্থায়ী শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও তাকে দেখা যেতে পারে।
জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না মেসিকে। তবে ইন্টার মায়ামির মাঠ, নতুন শিরোপার লক্ষ্য এবং ফুটবলের বাইরের পরিকল্পনা সব মিলিয়ে তার গল্পের শেষ এখনই হচ্ছে না। বরং শুরু হচ্ছে মেসির ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়।
